,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ

লাইক এবং শেয়ার করুন

সকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। সকাল ৮টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে প্রথমে ফুল দিয়ে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। এরপর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া শহীদে বেদীতে শ্রদ্ধা জানান। তাদের পর ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা একে একে শ্রদ্ধা জানানোর পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
 
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি, রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম, দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে সাম্যবাদী দল, খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলসহ (বাসদ) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
 
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সংগঠন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা দল, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও। শ্রদ্ধা জানান শিশু-নারী-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের জনতা। সোমবার ভোর থেকেই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নামে লাখো মানুষের ঢল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শোকের প্রতীক কালো পোশাক পরে আসেন অনেকেই। সবার হাতে হাতে ছিল ফুল।
 
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দু’দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঘাতক চক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেড়শ’ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। পরদিন সকালে ঢাকার মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলাতে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় হতভাগ্য এসব বুদ্ধিজীবীর নিথর দেহ। তবে ১৪ ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞের দিন হিসেবে স্মরণ করা হলেও মূলত ১০ ডিসেম্বর থেকেই ইতিহাসের এ ঘৃণ্যতম অপকর্মের সূচনা হয়। একাত্তরের ডিসেম্বরের এই হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা আজও নিরূপণ করা যায়নি। তবে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীর যে সংখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে, সেই অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী-সাহিত্যিক-প্রকৌশলী।

লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ