,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

“বাঙালি জাতি কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না” : প্রধানমন্ত্রী

লাইক এবং শেয়ার করুন

শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ও মূল পাইলিং স্থাপনের কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে এক সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি উদ্বোধনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বড় কাজ করতে গেলে হাত পাততে হবে এ মানসিকতা ভাঙতেই নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, আমরা পারি, আমরা তা দেখাব।… আজ আমরা সেই দিনটিতে এসে পৌঁছেছি।”

 

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অনেক বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্প হাতে নিলে বিশ্ব ব্যাংক এগিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়া তারা দুর্নীতির অভিযোগ আনে। যদিও আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিএনপি সরকারের সময়ের দু’টি দুর্নীতির কাগজ দেখায়।

 

বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মার ব্যাপারে কোথায় কি দুর্নীতি হয়েছে সেটা আমি জানতে চেয়ে চিঠি লিখেছিলাম। কোনো উত্তর পাইনি। আজ পর্যন্ত তারা প্রমাণ করতে পারে নাই কোথায় দুর্নীতি হয়েছে। আবার এটা নিয়ে কানাডায় মামলা হয়েছে। কানাডার কোর্ট এখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন কি কি দুর্নীতি হয়েছে তাদেরকে জানাতে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এখন পর্যন্ত কিছুই জানাতে পারে নাই। এখানে ঘটনা অন্য ছিল।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়। তারা এগিয়ে আসে। হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই দুর্নীতির একটা অভিযোগ আনে। আমি তাদেরকে প্রশ্ন করি, দুর্নীতি হয়েছে? আমাকে তার প্রমাণ দিতে হবে। কারণ তখনও কোনো টাকা ছাড় দেয়া হয় নাই। তাহলে দুর্নীতিটা হলো কোথায়? এটা নিয়ে অনেক আলোচনা তর্ক-বিতর্ক। তারা যে দুটো কাগজ আমাকে দেখিয়েছিল, সে দুটি ছিল বিএনপির আমলের। সেটাও এ বিষয়ের না। সেটা ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের ও চট্টগ্রাম চার লেনের। এটা বিএনপির আমলের।

 

তিনি বলেন, ‘কি দুর্ভাগ্য এই পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত দেখাতে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। একটার পর একটা শর্ত দেয়া হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে টাকা নেব না, আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পারি সেটা আমরা দেখাব। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার শেষ কর্মদিবসে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেই। ঘোষণা দেই নিজের টাকায় করব। বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিলাম। অনেক সাধারণ মানুষ অর্থ দিতে চেয়েছিল। অনেকে চেকও পাঠিয়েছিল, আমরা নেইনি।’

 

বক্তৃতার এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বাঙালি জাতি কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না। আমরা সেই জাতি, যে জাতি সম্পর্কে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না’, আজকেও সেটি প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একদিকে দক্ষিণ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনমানের উন্নতি হবে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।

 

এর আগে সকাল ৯টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। শরীয়তপুরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর আড়াইটার দিকে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকার মাওয়া চৌরাস্তাসংলগ্ন খানবাড়ী এলাকায় নির্মিত মঞ্চে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পদ্মা ১০ নম্বর রেস্ট হাউসে অবস্থান করবেন তিনি। এরপর সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

 

দুর্নীতি অভিযোগ এনে ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে যায় বিশ্বব্যাংক। সরকারও বিশ্বব্যাংককে না বলে দেয়। পরে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয় সরকার। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। গত মার্চে নির্মাণকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

 

পদ্মা সেতুর নদীর শাসনের কাজ করছে সিনো হাইড্রো করপোরেশন এবং চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি মূল সেতুর নির্মাণকাজ করছে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এতে মোট পিলার ৪২টি। চায়না মেজর ব্রিজের সঙ্গে সরকারের চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নভেম্বরে সেতুটি উদ্বোধন হবে অর্থাৎ গাড়ি চলাচল শুরু হবে। পদ্মা সেতুতে ব্যয় হচ্ছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। সংযোগ সেতুর কাজ শেষের দিকে। এ সেতু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে, প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচন হবে বলে আশা করছে সরকার।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ