,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে জনদূর্ভোগ সামান্য মাটি ফেলে টোল আদায় : প্রশাসন নিরব

লাইক এবং শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি # সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে মৎস্য, বালু, পাথর, ধান, কয়লা, চুনাপাথর আমদানী রপ্তানী করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব্য সরকারের কোষাগারে জমা দিলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের রেশটুকুও নেই এ উপজেলায়। গুরুত্বপূর্ন তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি দিকে লক্ষ্য করলেই তা বুঝা যায় সহজে। উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার কিন্তু নির্ধারীত স্থানে ব্রীজ না দেওয়ায় ও ব্রীজ সঠিক ভাবে তৈরি না করায় প্রতি বছর পাহাড়ী ঢলে ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। যার জন্য বর্তমানে এ সড়কটি উপজেলার সাড়ে তিন লক্ষাধিক জনসাধারনের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে।

 

এখন তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে পাতারগাঁও, টাকাটুকিয়া সহ কয়েকটি ভাঙ্গা অংশে সামান্য মাটি ফেলেই টাকা আদায় করছে স্থানীয় প্রভাবশালী, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলার প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধবতন কর্মকর্তাদের কে ম্যানেজ করে। যেখানে উপজেলা বা ইউপি পরিষদ থেকে সামান্য অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে সামান্য সংস্কার করলেই চলাচল করা যায় সহজে। সেখানে এভাবে টোল আদায় করায় ক্ষুব প্রকাশ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী,বিভিন্ন এলাকার সর্বস্থরের যাতায়াত কারী জনগন। সড়কটিতে সামান্য মাটি ফেলে,উচু-নিচু মাটি সমান করে গুরুত্বপূর্ন এ সড়কে যাতায়াতকারী প্রতিদিন শত শত মটর সাইকেল, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জন প্রতি ৫টাকা, মটর সাইকেল ১০-১৫টাকা, ঠেলা গাড়ি ২০-২৫ টাকা, গরু ২০টাকা হারে টোল আদায় কে কেন্দ্র করে জগড়া, বিবাধ লেগেই আছে প্রতিদিন। এই সড়কের সাথে যুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাকা সড়কটি এ বারের বর্ষায় ভেঙ্গে যাওয়ায় অসুস্থ রোগী নিয়ে ও সাধারন মানুষ চলাচল করতে পারছে না।

tahirpur-badaghat soroker patargaw banghaএই সড়কের পাতাঁরগাঁও থেকে বাদাঘাট পর্যন্ত ৩কিলোমিটার পাকা সড়কের ডালাইয়ের পাথর উঠে ভর ভর গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে অনুপযোগী পরেছে। তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি দিয়ে ব্যবসা বানিজ্যের প্রান কেন্দ্র বাদাঘাট বাজার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৪টি ইউনিয়ন, ৩টি শুল্কষ্টেশন, কলেজ এবং ছোট বড় বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার জনসাধারন শুষ্ক মৌসুমে বর্ষায় সড়ক পথে চলাচল করে থাকে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪বছর পার হলেও এই গুরুত্বপূর্ন সড়কটির কোন উন্নতি হয় নি। প্রতি বছর কেবল নাম মাত্র ভাংঙ্গা স্থানে সংস্কারের নামে পুকুর চুরি করলেও এবার কোন কাজ শুরু করা হয় নি জানান সচেতন এলাকাবাসী। পাহাড়ী ঢলে ভাঙ্গন ছাড়াও খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি সহ  উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরায় প্রতিদিনেই গঠছে নানা দূর্ঘটনা। তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে বৌলাই নদীর ব্রীজের উত্তর দিকে ৪০ফুট, হুছনার ঘাঠে ২৫ফুট, পাতার গাঁওয়ের উত্তর ও দক্ষিন পাশের ব্রীজ সংলগ্ন সহ তিনটি স্থানে ২০ফুট,১৫০ফুট ও ৩০০ ফুট রাস্তা পাহাড়ী ঢলে মাটি বিলিন হয়ে যায়।

 

কিন্তু বর্তমানে চলাচল করা যায় সহজে একটু সংস্কার করলেই। কিন্তু তা না করে এই ভাঙ্গা স্থানে এখন সামন্য মাটি ও উচু-নিচু মাটির রাস্তা সমান করে,নাম মাত্র বাশেঁর চাটাই বিছায়ে না বিছিয়ে টাকা আদায় করছে ইচ্ছা মাফিক জৈনেক ইজারাদার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ছত্রছায়ায়। সূত্রে জানাযায়-১৯৯৩ সালে এলজিইডি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেন। পরে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে ২০১১-১২অর্থ বছরে সড়কটিতে মাত্র ৬কিলোমিটার পাকা সড়কের কাজ হয়েছে। সেই রাস্তায় এখন ভাঙ্গন ও রাস্তার ডালাইয়ের পাথর উঠে গিয়ে ভর ভর গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাদাঘাট সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উপজেলা সদরে আসা লোকজন বলেন-এই রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ন আমাদের শুষ্কমৌসুমে ও বর্ষায় চলাচলের জন্য কিন্তু বর্তমানে যেখানে সামান্য সংস্কার করলেই আমরা জনসাধারন চলাচল করতে পাড়ি বর্তমানে বিনা পয়সায় সেখানে টোল আদায় করছে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের ইশারায়।

 

ব্যবসায়ীরা বলেন-ব্যবসা বানিজের সার্থে গুরুত্বপূর্ন এ সড়কটি সংস্কার করা জরুরী আর এখন যেখানে টোল আদায় করছে তা সম্পূর্ন অন্যায়। বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন-পাতারগাঁওয়ে টোল আদায়ের বিষয়ে সবার সম্মতি দিয়েছে তাই তারা সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করে টাকা তুলছে। তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন-তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাগজ পত্র জমা দেওয়া হয়েছে অর্থ বরাদ্ধ হলেই কাজ শুরু হবে। জনগনের সুবিধার্থেই পাতারগাঁয়ে ঐ লোকজনদের সংস্কার করে সামান্য টাকা তুলার জন্য বলা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-হাজার হাজার মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ন এ সড়কের সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার খুব বেশি প্রয়োজন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ