আজ বুধবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ দুপুর ১:৪৪ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৩তম বার্ষিকীতে রাম মন্দির নির্মাণের দাবিতে সরব হিন্দুরা, মুসলিমদের প্রতিক্রিয়া

বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ২৩তম বার্ষিকীতে রাম মন্দির আন্দোলন পুণরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিতে অনুরোধ করেছে। ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজিত ‘শৌর্য দিবস’ পালন অনুষ্ঠানে রামজন্মভূমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোহন্ত নৃত্যগোপাল দাস বলেছেন, ‘আমরা ফের রাম মন্দির আন্দোলন শুরু করব।’ তিনি বলেন, ‘রাম মন্দির নির্মাণের জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হিন্দু সাধু-সন্তদের পক্ষ থেকে খুব শিগগিরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা হবে এবং তাকে রাম মন্দির ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের এজেন্ডায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য অনুরোধ করা হবে।’  

 

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অন্য সিনিয়র নেতা মোহন্ত সুরেশ দাস বলেন, ‘আমরা এই ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করব। যদি আমরা সেখান থেকে ইতিবাচক জবাব পাই তাহলে আমরা অপেক্ষা করব। অন্যথায় ব্যাপকভাবে বিশাল মন্দির নির্মাণ আন্দোলন শুরু করা হবে।’ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সচিব রাজেন্দ্র সিং পঙ্কজ বলেছেন, ‘আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিবৃতির পর এটা মনে করা হচ্ছে, প্রভাবশালীদের হাতে এর দায়িত্ব রয়েছে। আমরা রাম মন্দিরের জন্য শিগগিরি আন্দোলন শুরু করব।’

 

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক নির্বাহী প্রেসিডেন্ট প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অযোধ্যায় গ্রান্ড রাম মন্দির নির্মাণ করিয়ে কোটি কোটি হিন্দুদের স্বপ্ন সার্থক করবেন।’ এদিকে, ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, ‘অযোধ্যাতে রাম মন্দির নয়, বাবরী মসজিদই গড়া হবে। ভারতের সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের ওপর আমাদের ভরসা রয়েছে, অযোধ্যায় অবশ্যই বাবরী মসজিদ নির্মাণ করা হবে।’ তিনি বলেন, মোহন ভাগবত স্বপ্ন দেখছেন, যা কোনোদিনই সফল হবে না। অযোধ্যায় কখনো মন্দির তৈরি হবে না।’ গত ২ ডিসেম্বর কোলকাতায় এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত তার জীবদ্দশাতেই রাম মন্দির দেখে যেতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী আজম খান বলেছেন, ‘বিজেপিকে ওই জায়গাতেই বাবরী মসজিদ নির্মাণ করে দেশবাসীকে বার্তা দেয়া উচিত এবার থেকে কোনো ধর্মস্থান ভাঙা হবে না।’ বিজেপি-আরএসএস-এর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট জায়গাতেই বাবরী মসজিদ নির্মাণ করা হলে মুসলিমরা বিজেপিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখবে না।’ উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রাচী অবশ্য বলেছেন, ‘মন্দির নির্মাণ বন্ধ করার জন্য কোনো শক্তির সাধ্য নেই। মন্দির রাম জন্মভূমিতে নির্মাণ করা হবে না তো কি মক্কা-মদিনায় নির্মাণ করা হবে?’  

 

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় উলামা কাউন্সিল, অল ইন্ডিয়া ইমাম কাউন্সিল (উত্তর প্রদেশ), মুসলিম মজলিশ, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লিগ, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ, পিছিয়ে পড়া জন সমাজ পার্টি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম ফোরাম, ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া প্রভৃতি সংগঠনের একটি যৌথ মঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে লখনউতে লক্ষণ মেলা ময়দানে এক ধর্না কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি বাবরী মসজিদ ধ্বংস মামলায় দোষীদের শাস্তি এবং ইনসাফ না পাওয়া পর্যন্ত আদালত এবং আদালতের বাইরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে বলা হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’-এর পক্ষ থেকে বাবরী মসজিদ ধংসে জড়িত অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ধর্না বিক্ষোভ করা হয়।   

 

অসমের বদরপুরে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এবং কালো পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করা হয়। কিছুদূর না যেতেই পুলিশ অবশ্য তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কোলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে দিনটিকে সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। রাজ্যে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য সংহতি রক্ষা নিয়ে এক মিছিল এবং সভা  করা হয়। দিনটিকে কালা দিবস হিসেবে পালন করে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com