ময়মনসিংহের ভালুকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন

এই সংবাদ ৬৫ বার পঠিত

সফিউল্লাহ আনসারী, ময়মনসিংহ # ময়মনসিংহ জেলার সর্ব দক্ষিনের উপজেলা ভালুকা।উচুঁ নিচু ও লালমাটির বনাঞ্চলে ঘেরা ভালুকায় প্রচুর পরিমানে আবাদ হয় কাঁঠালের । ভালুকা উপজেলার প্রায় সকল ইউনিয়নের গ্রামগুলোকে কাঠালের ভাল ফলন হয়, যা এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে রপ্তানি হয়। কাঠাল একটি অর্থকরি ফল হওয়ায় উৎপাদিত কাঠালের বেশীর ভাগ ঢাকায় বাজারজাত হলেও ভালুকার সুস্বাধু কাঠাল দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশও রপ্তানী হচ্ছে,তবে তা খুবই কম ।

বিগত বছরের মতো এবারও ভালুকার উথুরা,মল্লিকবাড়ী,হবিরবাড়ী,রাজৈ,বিরুনিয়া,ডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কাঠালের বা¤পার ফলন হয়েছে।বা¤পার ফলনের সাথে কাঠালের দামও ভালো বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশত কৃষকের বাগানে কাঠালের প্রচুর ফলন হয়েছে।মৌসুমের শুরুতে বাজার দর ভাল হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা কমে যাওয়ায় কম লাভবান হন কৃষক ।
বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ সারা বাংলাদেশে ভালুকার কাঠালের সু-খ্যাতি রয়েছে । তাই দেশজুড়ে এখানকার কাঁঠালের চাহিদা দেশের অন্য এলাকার তুলনায় একটু বেশী ।

বন্যার ঝুঁকি না থাকা এবং মাটির উর্ব্বরতার কারনে এখানকার কাঠালের ফলন বেশী ও স্বাদও ভিন্ন।ভালুকায় দু‘ধরনের কাঁঠালের আবাদ হয় বলে জানান কৃষি সংশ্লিষ্ঠরা।বর্তমানে বাজারে প্রতিটি কাঁঠাল ৬০-১০০(কাঁচা) ও ২০-৬০/৭০ (পাঁকা) টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইতমধ্যেই বাজারে কাঠালের আমদানী বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম হ্রাস পেয়েছে । তবে কাঠালের দাম কাঁচা ও পাঁকা ভেদে কম বেশী হয়।কাঠাল দ্রুত পচনশীল হওয়ায় কোন কোন সময় লাভের চেয়ে ক্ষতির অংক কষতে হয়।আর এ কারনেই কাঠাল সংরক্ষন ও প্রক্রিয়াজাতকরনে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য দ্বীর্ঘদিনের দাবী এ এলাকার কাঠালচাষি ও পাইকারদের।সরকারী বা বেসরকারী কোন পন্থায় প্রক্রিয়াজাতকরনের ব্যাবস্থা না থাকায় কৃষকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংরক্ষনাগার স্থাপন করা গেলে কাঠাল চাষ হয়ে উঠতে পারতো অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার একটা মাধ্যম।

ভালুকায় ব্যাক্তি উদ্যোগে কাঁঠালের বাগান গড়ে উঠলেও বানিজ্যিকভাবে কাঠাল চাষে উদ্যোগ নেই।বাণিজ্যিক উৎপাদনে এ অঞ্চলের কাঠালচাষ ব্যাপক বিস্তার লাভ করতে পারে বলে সংশ্লীষ্ঠদের ধারনা।ভালুকায় প্রকৃতি ও পরিবেশগতভাবে লাল মাটির উচু জায়গা হওয়ায় কৃষকদের একটি সম্ভাবনাময় কাঠাল বাগানের কৃষি অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব ।কাঠাল চাষে আলাদা যতœ ও খরচ না থাকায় অল্প বিনিয়োগে লাভ জনক আবাদ হিসেবে সাফল্য পাওয়া যায়।ভালুকার কাঠাল বিদেশে রপ্তাণী করেও বেশ সফলতা পাওয়া যেতে পারে,যদি সরকারী উদ্যোগ নেয়া হয়।হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের কাঠালের বেপারি মোঃ আঃ সালাম ও তোফায়েল আহমেদ জানান, বৈরি আবহাওয়া না থাকায় এ বছর কাঠালের বা¤পার ফলন হয়েছে, প্রকৃত মুল্য পেলে সব কৃষকই লাভবান হবে।কাঠালের এই পাইকার আরো জানান তারা এবার ১২ লাখ টাকার কাঠাল ক্রয় করেছেন,যা বাগান মালিকদের থেকে নেয়া।

এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল আজম খান জানান,ভালুকায় ব্যাক্তি উদ্যোগে আবাদ হওয়া প্রায় ৫লাখ কাঁঠাল গাছে এ বছর ১ কোটি কাঠালের ফলন হয়েছে যার বাজার মুল্য প্রায় ২৫কোটি টাকা । তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কাঁঠাল আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন মোটিভেশন প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা নেয়া হয় ।সংরক্ষনাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরনের বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন-ব্যাক্তি উদ্যোগে কেউ বা কোন কো¤পানী চিপস বা অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনে এগিয়ে আসলে সরকারী সহযোগীতা করা হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com