,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ভালুকা অংশের কাজ শেষ পর্যায়ে ঈদের আগেই খুলে দেয়া হবে গাড়ী চলাচলের জন্য

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী, ময়মনসিংহ # ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ  প্রায় শেষ পর্যায়ে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর প্রায় ৭০% কাজ শেষ হওয়ায় আগামী ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ভালুকা অংশের প্রথমধাপের কাজ শেষে চারলেন সড়কে যান চলাচলের জন্য খোলে দেয়া হবে।
ভালুকা অংশ কনস্ট্রেশন-৩ প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিঃ (পিবিএল) ৪ দফা সময় বাড়ানোর পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ করতে না পারায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সাড়ে ১১ কিলোমিটার রাস্তার সহ আনুসাঙ্গিক কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়- চারলেন প্রকল্পের কাজ চার ভাগে চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়।

এর মধ্যে নয়নপুর(৩০.২৫) থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা হয়ে ত্রিশালের চেলেরঘাট(৫৯.৮৫০) পর্যন্ত কনস্ট্রেশন-৩ প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড (পিবিএল) পায়। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধীকবার  মহা-সড়কের কাজ তদারকি করতে এসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলে  কসস্ট্রেকশন ১,২ ও ৪এর কাজ প্রায় শেষ  হলেও মন্ত্রীর নির্দেশকে উপেক্ষা করে ভালুকা অংশের দায়িত্ব প্রাপ্ত কনস্ট্রেশন-৩ প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড (পিবিএল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইচ্ছে মতো ধীর গতিতেই কাজ করে যাচ্ছিল। নিন্মমানে কাজ ও কাজের ধীরগতির কারণে পিবিএল এর কার্যাদেশ বাতিল করে সাড়ে ১১কিঃমিঃ রাস্তা ও আনুসাঙ্গিক কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

দায়িত্ব নেয়ার পর সেনা বাহিনী দ্রুত গতিতে রাস্তার কাজ করে যাচ্ছে এবং ঈদের পূর্বেই চারলেন রাস্তা খোলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ খাদেমুল ইসলাম।তিনি আরো বলেন-পিবিএল যে কাজ করেইনি সে কাজগুলো আগে শেষ করা হবে এবং পরে পিবিএলের নষ্ঠ হয়ে যাওয়া রিপিয়াংি কাজ করা হবে। তবে ঈদের আগেই চারলেন গাড়ী চলাচলে যোগ্য হবে।

ভরাডোবা নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে কাঠালী হাজীর বাজার পর্যন্ত রাস্তার বেশ কয়েকটি বক্র কালভার্টে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবং ভালুকা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আশরাফুল উলুম রাহমানিয়া কাওমী মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে মাটির পরীক্ষার জন্য কাজ করতে পাচ্ছে না। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর,আরামপ্রদ,নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯০২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেলে প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ব্যয় ৯৯২ কোটি ১০ লাখ টাকা করা হয়।

এবং পরবর্তীতে প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড প্রায় ১২কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি করে। নিন্মমানে কাজ করায় হবিরবাড়ি বিট অফিস থেকে  হবিরবাড়ি বাহারুল উলূম আলিম মাদাসার পর্যন্ত বর্তমানে রাস্তার অনেক অংশেই পিচ ও পাথর উঠে দিয়ে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়ে গাড়ী চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।এছাড়াও ঢালাইয়ের রাস্তাও ভেঙ্গে যাচ্ছে ও কনস্টেশন-৩ এর কাজে অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে।

২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের অধিনে ভালুকা, বানার, খীরু, সুতিয়া ও পাগারিয়া নদীর ওপর পাঁচটি সেতু (৪২৯ মিটার) নির্মাণ ও কালভার্ট বর্ধিতকরণ কাজ করা হয়েছে। জয়দেবপূর ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর মিজানুর রহমান ফকির বলেন- আমরা সাড়ে ১১কিঃমিঃ রাস্তার কাজ পেয়ে খুব দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার চেষ্ঠা করছি। এবং ঈদুল ফিতরের পূর্বেই  চারলেন  রাস্তা গাড়ী চলাচলের জন্য উপযোগী হবে এবং গাড়ী চলতে পারবে। পিবিএলের করা কাজকে সংস্কার ও বাকী কাজও আমাদেরকেই ডিসেম্বর নাগাদ করতে হবে।কর্তৃপক্ষ আরো জানায়-প্রথম ধাপে অসমাপ্ত ফোরলেন রাস্তার কাজ শেষ করে খোলে দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে বাকী কাজ শেষ করা হবে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহে লোকজনের যাতায়তের জন্য আর বেশি দিন দূর্ভোগ পোহাতে হবেনা,এমনটাই আশা সংশ্লীষ্টদের।পিবিএল এর অসমাপ্ত কাজ সেনাবাহিনী দ্রুতগতি চালিয়ে যাচ্ছে জুনের মাঝেই রাস্তার কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য চারলেন খোলে দেয়া হলে দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলবে চলাচলরত গাড়ী ও যাত্রী সাধারনের।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ