সিয়াম সাধনার মাস রমজান ।। সফিউল্লাহ আনসারী

৪৪ বার পঠিত

রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দ্বারে ফিরে এসেছে মহিমান্বিত মাস রমজান। হিজরি বছরের নবম মাস রমজান যা মাহে রমজান হিসেবে পরিচিত।বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।পৃথিবীর মুসলিম সম্প্রদায় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এ মাসে সাধ্যমত ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল থাকেন অধীক সওয়াবের আশায়।রহমত,মাগফেরাত ও নাজাতের অসামান্য সুযোগ নিয়ে প্রতিটা মুমিন-মুসলিমের জীবনে রমজান মাস আসে বছরে একবার।আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে ব্যাস্ত থাকে সকল ধর্মপ্রিয় মুসলিম।ইসলাম ধর্মের পাঁচটি রোকনের মধ্যে সিয়াম পালন তৃতীয় রোকন হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ।মহান রাব্বুল আলামীন রমজান মাসের সিয়াম পালন করাকে ফরজ করে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-ওহে,তোমরা যারা ঈমান এনেছো!তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান অবশ্য পালনীয় করে দেওয়া হলো, যেমন হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি,যার মাধ্যমে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো।রোজা একান্তই আল্লাহর জন্য রাখা হয় এবং তিনি নিজ হতেই এর প্রতিদান দেবেন।”

মহান রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমত হিসেব রমজান মাস বারোটি মাসের মধ্যে অত্যধীক গুরত্ব বহন করে।এ ব্যাপারে কুরআনে এরশাদ হয়েছে-“রমজান মাস, ইহাতেই কুরআন মাজীদ নাজিল করা হয়েছে।”[সূরা বাকারা : ১৮৫] । এস¤র্পকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে লোক রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে ঈমান ও চেতনা সহকারে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।”[সহীহ বুখারী : ২০১৪]
ইবাদতে মাস রমজান ধনী-গরিব, ছোট-বড়, আরব-অনারব সবার কাছে ফিরে আসে একই সওগাত নিয়ে। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিবেদিত বান্দা হিসেবে নিজেকে সর্মপন করেন তাকওয়া অর্জনের ঈমানি চেতনায়। এসব কারনে পবিত্র রমজান মাস খুবই ফজিলতপুর্ণ এবং সম্মানিত।

এ মাসেই রয়েছে হাজার রাতের চেয়েও উত্তম রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর। এ রাতের ইবাদত সহস্র মাসের ইবাদতের চাইতেও উত্তম বলা হয়েছে। আল্লাহ নিজে যেমন রোজার বিনিময় দেওয়ার ওয়াদা করেছেন তেমন শবে কদরের রাতের মহিমান্বিত রজণীতে পাপী বান্দার মুক্তির ব্যবস্থাও করেছেন। “পবিত্র রমজানের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতেকাফ ও লাইলাতুল কদর। এতেকাফ মূলত-লাইলাতুল কদর তালাশের জন্য যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল। এ রাত নিয়ে সরাসরি একটি সূরায় আল্লাহ উল্লেখ্য করেছেন। নবী (সঃ) গোটা জীবন এ রাতের সন্ধানে এতেকাফ করেন।হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন -রাসূল (সঃ) রমজানের শেষ দশকে ওফাতের পূর্ব পর্যন্ত ১০দিন এতেকাফ করেন। (বোখারী মুসলিম)”(সংগৃহীত)।

ধৈর্য্য সংযম আর শারিরিক-মানসিকভাবে লোভ-লালসামুক্ত জীবন পরিচালনায় এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম।বৈষম্যহীন সমাজ বির্নিমানে রমজান মাসের ভুমিকা পার¯পরিক সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যপুর্ণ সদাচরনের শিক্ষা দেয়।সারাদিনের সিয়াম সাধনার পর ইফতারী,রাতে তারাবি নামায আদায়, সেহরি, দান-খয়রাত, জাকাত-ফিতরা আদায়, লাইলাতুল কদর, ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে ধনী-গরিবের ভেদাভেদহীন পরিবেশ মুসলমান জাতির জন্য কল্যাণকর পরিবেশকে সমুন্নত করে। পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-“তোমাদের  মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, অবশ্যই তাতে সিয়াম পালন করবে। ”[সূরা বাকারা:১৮৫] রমজান মাসের মুসুল্লিগণ তাদের ইহ ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তির আশায় বেশী-বেশী সালাত, কুরআন তিলাওয়াতে, তাসবিহ-তাহলিল এবং যিকির আযকারের মাধ্যমে  ইবাদাত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন-আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও অধীক সওয়াবের আশায়। এ মাসের ইবাদতের জন্য রয়েছে বোনাসসহ সওয়াব যা অন্য মাসের চেয়ে ৭০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে রাসূলের বাণী-“তোমাদের নিকট রমজান মাস সমুপস্থিত। উহা অত্যন্ত বরকতময় মাস।আল্লাহ তায়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরোজা সমূহ উম্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় ও সেরা শয়তানগুলো আটক করে রাখা হয়। আল্লাহর জন্য এ মাসে একটি রাত আছে,যা হাজার মাসের চেয়েও অধীক উত্তম। যে লোক এই রাত্রির মহাকল্যাণ লাভ হতে বঞ্চিত থাকল,সে সত্যই বঞ্চিত ব্যক্তি।”[সুনান আত-তিরমিযী : ৬৬৮]

এ মাসে অবতীর্ণ হয় মানবতার মুক্তিসনদ মানুষের জীবন বিধান মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এ মাসেই (১৭রমজান) হক ও বাতিলের চূড়ান্ত সংঘর্ষ-বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এমাসের ফজিলত বলে-কয়ে শেষ করা যাবেনা। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত,মাগফেরাত ও নাজাতের এই মহিমান্বিত মাসে আমাদের বেশী করে নেক আমল করতে হবে যাতে পেছনের পাপগুলি মুছে যায় এবং জীবন পুণ্যময় হয়। সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য যেহেতু তাক্বওয়া অর্জন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা সেহেতু কোন অজুহাতেই যেনো এমন মহতি সুযোগ আমাদের হাত ছাড়া হয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ রেখে রমজান মাসের রোজাগুলি সঠিকভাবে পালন করে যাতে আমরা নাজাতের কামিয়াবি অর্জন করতে পারি, মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সেই তৌফিক দান করুন।সিয়াম সাধনা যেনো হয় তাক্বওয়া অর্জনের জন্যই।লোক দেখানো বন্দেগী ছেড়ে সঠিক পন্থায় ইবাদতের মাধ্যমে পূণ্যময় হোক আমাদের সবার জীবন।আমীন…।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com