ফেব্রুয়ারিতে হাসপাতাল ছাড়ছেন বৃক্ষমানব আবুল

২৯৩ বার পঠিত

বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত ‘বৃক্ষমানব’ আবুল বাজানদার ১৬ বার অস্ত্রোপচারের পর প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আবুল বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র পাবেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের বিরলতম ‘এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিমরফিস’ রোগের শিকার আবুল বাজানদার শিগগির হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন।গত এক বছরে অন্তত ১৬ বার অস্ত্রোপচার করে তার হাত ও পায়ের বর্ধিত অংশ অপসারণ করা হয়েছে। এসব অংশের ওজন পাঁচ কেজি।

এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিমরফিস রোগটি ট্রি-ম্যান সিনড্রোম নামে পরিচিত। এ রোগে আক্রান্ত বিশ্বের চারজন সৌভাগ্যবানের একজন হলেন ২৭ বছর বয়সী আবুল বাজানদার, যিনি চিকিৎসা পেয়েছেন।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টি সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লালের দাবি, আবুল বাজানদারের সেরে ওঠা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।তিনি বলেন, আমরা আবুল বাজানদারের আঁচিল অপসারণের জন্য অন্তত ১৬ বার অস্ত্রোপচার করেছি। এখন তার হাত ও পায়ের অবস্থা প্রায় চমৎকার।
আরও দুটি ছোট অস্ত্রোপচাররের তার হাতের অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে জানিয়ে আবুলকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে জানান সামন্ত লাল।

এই চিকিৎসকের মতে, ট্রি-ম্যান সিনড্রোম থেকে সেরে ওঠা রোগীদের মধ্যে আবুল বাজানদারই প্রথম, যার আঁচিল নতুন করে বেড়ে উঠছে না।ইন্দোনেশিয়ায় গত বছর এ রোগে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি মারা গেছেন।অসুস্থতার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিলেন না বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায় শায়িত আবুল বাজানদার।তার তিন বছরের একটি মেয়ে আছে, আঁচিলের ব্যথার কারণে তাকে কোলে নিতে পারতেন না আবুল বাজানদার।

ব্যান্ডেজ পেঁচানো হাত দেখিয়ে আবুল বাজানদার বলেন, কখনোই ভাবিনি আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারব। কিন্তু এখন আমি অনেক সুস্থবোধ করছি। মেয়েকে কোলে নিতে পারছি, তার সঙ্গে খেলতে পারছি। বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
বাজানদার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলা খুলনার বাসিন্দা। তার শারীরিক অবস্থার খবর জানাজানি হলে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।স্ত্রী হালিমা খাতুনের সঙ্গে বাজানদারের দেখা হয় তখন তিনি ট্রি-ম্যান সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন না। কিন্তু তারা যখন বিয়ে করেন, ততো দিনে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। এ কারণে হালিমার পরিবার বিয়েতে রাজি ছিলেন না।

প্রায় এক বছর আগে প্রথম অস্ত্রোপচার করার সময় থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে জীবন কাটছে বাজানদার, হালিমা এবং তাদের মেয়ের।হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক নুরুন্নাহার বলেন, আবুল বাজানদার সম্ভবত এ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে অবস্থানকারী রোগী, যিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসায়ও সিক্ত।

আবুল বাজানদার জানান শুরুতে তার মনে হয়েছিল শরীর আঁচিলগুলো ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এগুলো ক্রমেই তার হাতে এবং পায়ে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে এক পর্যায়ে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়।বর্তমানে তিনি ছোটখাটো ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেসব অনুদানের পেয়েছেন তা দিয়েই তিনি ব্যবসাটি করতে চান।আবুল বাজানদার বলেন, আমি মেয়েটির বেড়ে ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। আশা করছি ‘অভিশাপ’ (ট্রি-ম্যান সিনড্রোম) আর ফিরে আসবে না।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com