নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের খাঁচাবন্দী পাখি : রুহুল কবির রিজভী

২৪ বার পঠিত

‘‘নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের খাঁচাবন্দী পাখি। শুধু সরকারের নির্দেশ মান্য করা ছাড়া তার কিছুই করার নেই। কমিশন শুধু সরকারের সমস্ত উস্কানি, প্ররোচণা, অসভ্যতা, রক্তারক্তি, খুনোখুনি, প্রাণহানি, জখম করে পঙ্গু করার ঘটনাগুলোকে সমর্থণ দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে।’’ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বললেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোট চুরি, ভোট ডাকাতির এতো সব মহাযজ্ঞের পরেও কোনরকম গণতান্ত্রিক সৌজনের তোয়াক্কা না করেই আজকেও হয়তো নির্বাচন কমিশন বলবে-আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আজকের নির্বাচন আরো সুষ্ঠু হয়েছে। কমিশনের এই নিলর্জ্জ ভূমিকা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোই কেবল নয়, অধিকার গ্রুপ, ইলেকশন মনিটরিং গ্রুপ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, কলামিষ্টরা নির্বাচন কমিশনের আজ্ঞাবাহী ভূমিকা নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ, আপত্তি ও নিন্দা জানালেও নির্লজ্জতার মর্মর মনুমেন্ট নির্বাচন কমিশন বে-হায়ার মতো তা দেখেও না দেখার ভান করছে।
 
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপোষহীন নেত্রী। জনবিছিন্ন এই সরকার খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলায় চার্জসিট দিচ্ছেন।
 
সরকারের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘সরকারের কোনো কারাগারেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা যাবে না।বরং কারাগারে থাকতে আপনারাও প্রস্তুত থাকবেন।’’  রিজভী আহমেদ বলেন, দেশে আজ ৮টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনের মতোই পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চলছে।
 
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের নীতিই হলো দুর্নীতি, আর ঐতিহ্য হলো সহিংস সন্ত্রাস, এদের আরেকটি ঐতিহ্য হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের নিকট এরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারঙ্গম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা ভোটের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সিংহাসন দখলের পর তারা আরো বেশি মাত্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর সেজন্যই আমরা দেখতে পাচ্ছি একের পর এক স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এক পৈশাচিক রক্তের হোলিখেলা। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে শুধু রাত বিরেতে নয়, বরং দিনে দুপুরে সাধারণ ভোটারদের চলতে ফিরতে গা ছমছম করে। রক্তচোষা আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির কড়াইশুদ্ধ খেয়ে ফেলে এখন জনগণের হাড়গোড় চিবিয়ে খাচ্ছে।”
 
বিএনপির এই নেতা বলেন, “সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশে দেশে নির্মম একদলীয় সরকার তৃণমূল পর্যন্ত তাদের কমান্ড নিশ্চিত করার জন্যই দলীয় লোকদের দিয়ে স্থানীয় সরকার গঠন করে। আর এ ব্যবস্থায় বিরোধী সংগঠন, ভিন্ন মতাদর্শ, সরকারের সমালোচনা একেবারেই উচ্ছেদ করে দেয়া হয়।” সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আব্দুল আউয়াল খান, মাহবুবুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com