নির্বাচনের ত্রিমুখী প্রস্তুতি জাতীয় পার্টির, উড়ে এসে জুড়ে বসার সুযোগ নেই

৪১১ বার পঠিত
নজরুল ইসলাম: রাজনীতিতে নিজের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। এ ইস্যুতে বেশ আটঘাট বেঁধেই রাজনীতির মাঠে নেমেছে দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামনে রেখে মূলত ত্রিমুখী ধারায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান সংসদে বিরোধী দলে থাকা দলটি।

প্রথমত, ১৪ দল ও ২০ দলীয় জোটের বাইরে তৃতীয় জোট গঠন করে এই জোটকে নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, কোনো জোটে না গিয়ে অন্তত শতাধিক আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে একক নির্বাচন করা। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ৫০টি আসন টার্গেট করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। তবে এসব কিছু নির্ভর করছে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কৌশল হিসেবে সরকার ও বিরোধী উভয়রেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। দুইদিকে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও দুই জোটের বাইরে গিয়ে তৃতীয় জোট গঠনের চেষ্টাও করে যাচ্ছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ৬ মার্চ ১৫টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন জাপা চেয়ারম্যান। এই বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জাপার নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
 
তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আগে দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজে মনোনিবেশ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
 
সম্প্রতি দলের এক সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেছেন, আগামীতে আমরা এককভাবে নির্বাচনে যাবো। আর কারো সঙ্গে জোট নয়। তবে কেউ চাইলে আমাদের সঙ্গে আসতে পারে। এ জন্য আগে পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই মানুষ আমাদের দিকে এগিয়ে আসবে। 
 
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় এরশাদ নিজেই তত্ত¡াবধান করছেন। এক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করছেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। ইতোমধ্যে দলের সংসদ সদস্যদের যার যার নির্বাচনী এলাকায় আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্য বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্যদের বাইরে দলের শীর্ষ নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও যার যার এলাকায় যাতায়াত বাড়াতেও বলেছেন তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দল মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন এরশাদ। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজটি সম্পন্ন করতে চান তিনি। এ জন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করেছেন। এর অংশ হিসেবে দলের নেতারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চানÑ তা জানতে চেয়েছেন এরশাদ। নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থাও জানানোর জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
 
এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দলের কর্মকাÐ ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য দলের মহাসচিবকে দায়িত্ব দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেÑ এমন ভাবনা মাথায় রেখেই প্রার্থী বাছাইয়ে কাজেও হাত দিয়েছেন এরশাদ। বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বাকি আসনগুলোতেও যোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে দুটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগোচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রথমত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে নিজের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করা। দ্বিতীয়ত, এর অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করা।
 
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য, তা হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নেয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। দেখতে দেখতে সময় ঘনিয়ে আসবে। তাই আমরা আগেভাগেই নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছি।
 
তিনি আরো বলেন, দলের নেতারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান, পার্টি চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে তা জানতে চেয়েছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হবে।
 
নির্বাচনের অংশ নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের একক ও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই করার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত নেওয়ার কাজ চলছে।
 
 
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।  তবে আমরা প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা, ক্লিন ইমেজ ও দলের জন্য ত্যাগী নেতাদের যোগ্যতম ভাবছি। আগামীতে প্রার্থী হতে হলে এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই প্রার্থী হতে হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসার সুযোগ নেই।
 
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় বলেন, আগামী নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে চান দলের চেয়ারম্যান। এটিকে বিবেচনায় নিয়েই তিনি জোটগতভাবে না একক নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে তার সিদ্ধান্ত হবে। তিনি চান একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। তবে যদি কেউ জাপার সঙ্গে জোট গঠন করতে আগ্রহী হন তাদের স্বাগত জানানো হবে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করে এগোচ্ছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। জাপার নেতৃত্বে কয়েকটি দল নিয়ে জোট গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, চলতি মাসের দিকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেবেন দলের চেয়ারম্যান।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com