নিজের ঘরে যুদ্ধাপারাধী পালছে আর মন্ত্রী বানাচ্ছে আওয়ামী লীগ : খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মান দেয়নি। তারা নিজের ঘরে যুদ্ধাপারাধী পালছে, মন্ত্রী বানাচ্ছে। তাদের আত্মীয়স্বজনদের অনেকে রাজাকার। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।”সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নির্বাসিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাহসী মানুষের ঐক্য ও আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই’- শীর্ষক এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

 

খালেদা জিয়া আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করলেও স্বাধীনতার পর তারা রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য কায়েম করেছে। তাদের তৈরি রক্ষীবাহিনী লোকদেরকে ঘর থেকে ধরে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। প্রতিদিন মানুষ গুম করেছে। সেই গুম-হত্যার সেই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। এখনও অহরহ মানুষ খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ গুণীদের সম্মান করতে জানে না। তিনি শাহাবুদ্দীন ও লতিফুর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, গুণী এই মানুষদেরকে আওয়ামী লীগ অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করেছে।

 

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি, তারা আজ বড় মুক্তিযোদ্ধা। ক্ষমতায় গেলে এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এটা নিয়েও বিতর্ক আছে।’ শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।

 

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে সত্যিকারে যারা সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করেছিল বিএনপিও তাদের বিচার চায়। কিন্তু সেটি হতে হবে আন্তর্জাতিক মানসম্মত, স্বচ্ছ। আসন্ন পৌর নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি ৮০ শতাংশ ভোট পাবে। নির্বাচন কমিশনকে অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রতিনিয়ত নির্বাচনের আচরণবিধি ভাঙছেন, শেখ হাসিনা নিজেও ভেঙেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী দেবেন না।

 

খালেদা জিয়া বলেন, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পেছনে ষড়যন্ত্র আছে। নির্বাচন ছিনতাই করে আওয়ামী লীগ দেখাবে, ধানের শীষের পক্ষে জনগণ নেই। সব মানুষ নৌকার পক্ষে। কিন্তু নৌকা যে ডুবে গেছে, তা তারা ভুলে গেছে। তিনি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। খালেদা জিয়া বলেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত নির্বাচিত মেয়রদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আবার অনেককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের জেলে পুরে সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করতে চায়।

 

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
১৭ বার পঠিত

Leave a Reply