নানা অনিয়ম ও ভূযা ডাক্তার দিয়ে চলছে ভান্ডারিয়ার ভাই ভাই প্যাথলজি

বিশেষ প্রতিনিধি: জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের ভাই ভাই প্যাথলজিতে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ভূয়া ডাক্তার দিয়ে সেবা প্রদান এবং রোগীদের ভুল রির্পোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্স সড়কের পাশে অবস্থিত ওই প্যাথলজিতে সেবা নিতে আসা রোগীরা।
জানা গেছে, গত ১০ নভেম্বর উপজেলার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের একটি মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণি পড়–য়া অবিবাহিত এক ছাত্রীর পেটে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করে। পরবর্তীতে তার অভিভাবকেরা ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ওই প্যাথলজিতে আলট্্রাসনোগ্রাম করান। সেখানে অসুস্থ ছাত্রীটির আলট্রাসনোগ্রাম করান ওই প্যাথলজি সেন্টারে কর্তব্যরত ডাঃ নুরুল ইসলাম এবং তার রিপোর্টে ধরা পরে মেয়েটি গর্ভবর্তী। পরবর্তীতে রিপোর্টটি নিয়ে ছাত্রীর অভিভাবকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন হাজরাকে দেখালে তিনি রির্পোট দেখে হতবাগ হন এবং পরবর্তীতে অন্য প্যাথলজিতে করা আলট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়ে মেয়েটি গর্ভবতী না। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন হাজরা ভাই ভাই প্যাথলজির ডাক্তার নুরুল ইসলামকে ডাক্তারি সনদপত্রসহ তার কাছে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেন। তিনি এমবিবিএস পাসের কোন সনদ দেখাতে না পারায়, তাকে ওই প্যাথলজি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর, ওই প্যাথলজির আরেক তথাকথিক ডাক্তার কবির হোসেন লাপাত্তা হয়ে যায়। তিনি নিজেকে জাতীয় অধ্যাপক (শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ) ডাঃ এম.আর. খানের সহযোগী দাবি করে ওই প্যাথলজিতে কাজ করছিলেন।
ওই প্যাথলজির নামে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, সেখানে ডিপ্লোমাধারী কোন টেকনোলজিষ্ট নাই এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক্স-রে পরীক্ষার কক্ষে ১০ ফুট দেয়াল থাকার নিয়ম থাকলেও, তাদের তা নাই।
সম্প্রতি পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ফখরুল আলম ওই প্যাথলজিতে পরিদর্শনে গিয়ে প্যাথলজিটির অনিয়মের ব্যাপারে জানতে পেরেছেন এবং তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য বলেছেন। এমনকি তিনি ওই প্যাথলজিতে এক্স-রে করার কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে বলেন যতক্ষণ না ১০ ফুট দেওয়াল নির্মান করা হয়। তবে নিয়ম না মেনে এখনও চলছে এক্স-রে এর কাজ।
এ সকল অভিযোগের ব্যাপারে ভাই ভাই প্যাথলজির মালিক মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। এছাড়া যে ডাক্তার ভুল আলট্রাসনোগ্রাম করেছিল তাকে প্যাথলজি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে এবং আলট্রাসনোগ্রামের কাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে একজন নতুন টেকনোলজিস্টও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ওই প্যাথলজিতে। তবে এক্স-রে কক্ষের দেওয়াল নির্মানের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্যাথলজির জায়গা নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। তাই সেখানে দেওয়াল তুলতে একটু সময় লাগছে। জমির জটিলতা দূর হওয়ার সাথে সাথেই তিনি সেখানে দেওয়াল তৈরী করবেন। আর এই জটিলতা অল্প সময়ের মধ্যেই দূর হবে বলে তিনি আশা করেন।
ভাই ভাই ক্লিনিকের অভিযোগের ব্যাপারে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্ব্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন হাজরা বলেন, ভাই ভাই প্যাথলতিতে যে ডাক্তার ভুল আলট্রাসনোগ্রাগ্রাম করেছিল, তাকে ওই প্যাথলজি থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছ। তবে রোগীদের এক্স-রে করার ব্যাপারে আগামী মিটিং এ সিভিল সার্জন অফিসে মিটিং এ আলোচনা করবেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, তিনি প্যাথলজি কর্তৃপক্ষকে যাবতীয় সমস্যাগুলো অতিদ্রুত সমাধানের জন্য বলেছেন। তবে সেখানে এখনও কোন অনিয়ম আছে কিনা, তিনি খোাঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

বার্তা প্রেরক
সৈয়দ বশির আহম্মেদ
কাউখালী প্রতিনিধি
পিরোজপুর।
তারিখঃ ৩০/১১/২০১৫ইং

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২১ বার পঠিত

মিজানুর রহমান পনা (মিজানপনা)

Meezanur rahman Pana SAMOBAD PROJUKTI CENTER. RAJAPUR,JHALAKATHI Contact no:01715657840,01833411222, E-mail:meezanpana@gmail.com Excepted Post: Jhalakathi Correspondent.

Leave a Reply