দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে ভারত (স্কোরঃ ৬৪/২)

৪৮ বার পঠিত
২৯৯ রানে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে ফলোঅন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিং করেন মুরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাঞ্চে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে এক ওভারে ভারতের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১ রান।  এর আগে মুশফিকুর রহিমের ক্যাপ্টেন্স নকে বাংলাদেশ ৩৮৮ রানে অল আউট হয়। ফলোঅন থেকে তখনো বাংলাদেশ ১০০ রান দূরে। তারপরও বাংলাদেশকে ফলোঅন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। এদিন টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’।

শতক উদযাপনে ২৩৬টি বল মোকাবেলা করেন মুশফিক। তাতে ছিল ১৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার। রবিচন্দ্রন ‍অশ্বিনের বলে আউট হওয়ার আগে ২৬২ বলে ১৬ চার ও দুই ছক্কায় ১২৭ রান করেন মুশফিক। ফলোঅন এড়াতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪৮৮ রান করতে হতো। তবে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি আবারও ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। মুশফিক-মিরাজের অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে ভালোভাবেই তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু, শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ দিনের প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান মিরাজ (৫১)। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

চাপের মুখে মুশফিকের সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন ১৯ বছরের তরুণ মেহেদি হাসান। হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি উদযাপন করেন এ উঠতি অলরাউন্ডার। মিরাজের বিদায়ে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে স্ট্রাইক দিয়ে ভরসা রাখেন মুশফিক। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও বল ব্যাট ছুঁয়ে ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসে আটকা পড়ে। তাইজুলের ইনিংস শেষ হয় ৩৮ বলে ১০ রান করে। রবিন্দ্র জাদেজার বলে প্লিপে থাকা অজিঙ্কে রাহানেকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন। ৩৫ বলে এক চারে ৮ রান করেন তিনি।

বিরাট কোহলির ডাবল সেঞ্চুরি (২০৪), মুরালি বিজয় (১০৮) ও ঋদ্ধিমান সাহার (১০৬ অপ.) জোড়া শতকে রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। চেতশ্বর পুজারা ৮৩ ও অজিঙ্কা রাহানের ব্যাট থেকে আসে ৮২। সাহার সঙ্গে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন রবিন্দ্র জাদেজা। ছয় উইকেটে ৬৮৭ রান তোলার পর ইনিংস ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া।

জবাবে ১০৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপের মুখেই পড়েছিল সফরকারীরা। সাকিব-মুশফিকের ১০৭ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচে ফেরে টাইগাররা। সেঞ্চুরি থেকে ১৮ রান দূরে থাকতে অশ্বিনের বলে উমেশ যাদবের হাতে ধরা পড়েন সাকিব আল হাসান। এর আগে মুমিনুল হকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে অযথাই রানআউটের শিকার হন ওপেনার তামিম ইকবাল (২৪)। মুমিনুলও বেশিদূর এগোতে পারেননি। মাত্র ১২ রান করেই যাদবের বলে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফেরেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (২৮) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন ইশান্ত শর্মা। রবিন্দ্র জাদেজাকে সুইপ করতে গিয়ে ইনিংসের তৃতীয় এলবিডব্লু আউটে নাম লেখান সাব্বির রহমান (১৬)।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। ভারত একাদশ: মুরালি বিজয়, লোকেশ রাহুল, চেতশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), আজিঙ্কে রাহানে, উমেশ যাদব, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা, ইশান্ত শর্মা ও ভুবনেশ্বর কুমার।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com