ডিজিটাল অশ্লীলতায় ভরপুর ইউটিউব

৩৭ বার পঠিত
নব্বই দশকের শেষ দিকে ঢাকাই সিনেমায় অশ্লীলতার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ হয়। সেন্সর বোর্ডের নাকের ডগায় চলে অশ্লীল দৃশ্যসমেত ছবির প্রদর্শন। সিনেমা হলগুলোতে দেখা দেয় নরক গুলজার অবস্থা। সেন্সর বোর্ডের চোখে ধুলা দিতে চলে কাটপিসের ব্যবহার। নীল ছবিকে হার মানানো এসব দৃশ্য সহযোগে দেশের হাজারো সিনেমা হলে তরুণ দর্শকদের ঢল নামে। কাঁচা পয়সার টানে পাতি প্রযোজকরা সিনেমার ইজ্জত তোলে নিলামে।

গত দশকের মাঝামাঝিতে প্রশাসনের কঠিন সিদ্ধান্তে ঝিমিয়ে আসে অশ্লীলতা। অশ্লীল ছবির জন্য কুখ্যাত সিনেমা হলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়। বিশালসংখ্যক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধ্বস নামে চলচ্চিত্র ব্যবসায়। ছবির বাজেট কমে অাসে। শিল্পী সংকট দেখা দেয়। পাইরেসি আক্রমণ করে। আসে যৌথ প্রযোজনা ছবি। মার খেতে থাকে দেশিয় ছবি। ডিজিটাল ছবির অাগমেনর পর ছবির মান নেমে যায় অনেকখানি। প্রশ্ন উঠে চলচ্চিত্রের নামে আসলে দর্শক কী দেখছে। একই সঙ্গে সিনেমা হলের দর্শক ঝুঁকে পড়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মের প্রতি।

আজকাল ইউটিউবে এক বিশাল শ্রেণীর দর্শক গড়ে উঠেছে। যারা সিনেমা হলের চেয়ে বাড়িতে বসেই ছবি উপভোগ করতে পছন্দ করেন। তাদের চাহিদার জন্য সিনেমা হল ঘোরা শেষ হলে প্রযোজকরা তাদের ছবি তুলে দিচ্ছেন ইউটিউবে। আর ইউটিউবে ঘাপটি মেরে আছে কুরুচিপূর্ণ দর্শক। আর এই দর্শকদের চাহিদাকে মাথায় রেখে প্রযোজকরাও কুরুচির পরিচয় দিচ্ছেন। আগে নামে-বেনামে ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে বিভিন্ন অশ্লীল বাংলা ছবি আপলোড করা হলেও এখন এগুলো অফিসিয়ালি আপলোড করা হচ্ছে।

দর্শক আকর্ষণ করতে, হিট বাড়ানোর নেশায় বিভিন্ন চ্যানেল বাংলা ছবি আপলোড করছে অশ্লীল কাভার দিয়ে। সম্প্রতি সিডি চয়েস ধামাকা মুভিজ নামের একটি চ্যানেলে ঢুকে দেখা গেল, দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউডের বি-গ্রেডের নায়িকাদের অশ্লীল স্টিল ব্যবহার করে বিভিন্ন বাংলা ছবির কাভার বা থাম্ব বানানো হয়েছে।

‘নাজেহাল’, ‘অপরাধী সন্তান’, ‘ডাইনি বুড়ি’, ‘আইন বড় না সন্তান বড়’ ইত্যাদি ছবির অশ্লীল কাভার দেখে দর্শকরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। ছবির ভেতরে তেমন অশ্লীল দৃশ্য না থাকলেও অশ্লীল নারীদেহ ব্যবহারের কারণে সংশ্লিষ্ট ছবির পরিচালকরা ও শিল্পীরা সমালোচিত হচ্ছেন। ইউটিউব প্রযোজকদের আয়ের একটা নতুন মাধ্যম বলে বিবেচিত হচ্ছে। সেন্সর বোর্ডের কোনো নজরদারিও এখানে নেই। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই মাধ্যমটিকেও অশ্লীল যুগের মতো নোংরাভাবে ব্যবহার করতে চাইছেন। এ ব্যাপারে সচেতন মহল বিটিআরসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মানিক ওমর বিনোদন প্রতিবেদক#

+8801766310000

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com