ডা. মাসুদের চিঠির জবাবে ডা সহেলীর ফেসবুক লাইভ

৮২ বার পঠিত

মামলা চলাকালেও ডা. সহেলী আবেদিন ও ডা. মাসুদ ইকবাল পরস্পরকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। পরিবর্তন ডটকম সংবাদ প্রকাশের পর থেকে দুই চিকিৎসক নানাভাবে তাদের নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরছেন। শনিবার ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ড. সহেলী। সেখানে তিনি পরিবর্তন ডটকমের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। এর আগে খোলা চিঠি প্রকাশ করেন ডা. মাসুদ। নিচে ফেসবুক লাইভে দেওয়া সহেলীর বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো—

আচ্ছালামু আলাইকুম, আজকে ফেসুবক লাইভ করার কারণ হল বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন কথাবার্তা দেখে আমি নিজেও অবাক হচ্ছি। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে যা, আমি বিচার চেয়েছি আদালতের কাছে। এখন ড. মাসুদ ইকবাল গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে সাসপেন্ড অবস্থায় আছে। সেই ক্ষেত্রে কেউ যদি আদালদের বিচার নিয়ে কথা বলে তাহলে আমার বলার কিছু থাকে না। আর বারবার করে পত্রিকায় প্রতিবাদ লিপি দেওয়া সম্ভব না।

আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে কেউ অপরাধী কিনা সেটা আদালতের বিষয়। কিছু সাংবাদিকের জন্য যদি প্রতিদিন আমাকে এভাবে লাইভে এসে নিজেকে জাহির করতে হয়! এটা খুবই মজার বিষয় যে-ই পত্রিকা দুইদিন আগে পরিবর্তন ডটকম আমার প্রতিবাদলিপি দিল আবার দুইদিন পরে ড. মাসুদ ইকবালের খোলা চিঠি দিয়েছে। যিনি বলছেন, আদালতের বিষয়ে আমাদের আস্থা রাখা উচিত আবার তিনি বলছেন জেল হাজতে গিয়েছেন।

সিএমএম কোর্ট, মহানগর দায়রা জর্জ কোর্ট থেকে জামিন নামঞ্জুর হয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তার মানে এই না কেসটা শেষ হয়ে গেছে। কেসের নারাজি জমা দেওয়া হয়েছে। দুইটা কেস আছে তার নামে। জেলে না যাওয়া বা বরখাস্ত ঠেকানোর জন্য কাউকে অন্যায়ভাবে দমন করার জন্য আপোস নিতে চায়। খোলা চিঠিতে যা দেখলাম, আপোস করার জন্য মামলা দিলাম। কোন কোন দুই-একটা পত্রিকাকে প্রলুব্ধ করে এভাবে ইয়েলো জার্নালিজমের খবর ছাপালাম আর বাহবা পেলাম। আর আমি আপোস করতে চাইলাম। আরে ভাই আপোস করার জন্য খোলা চিঠির দরকার কি? যদি সৎ সাহস থাকে আপনি আমার সামনে আসেন। সামনে এসে কথা বলছেন না কেন? আমি তো কর্মরত আছি। আপনি যে ধরনের মামলা দিয়েছেন এক্স ওয়াই জেড। এঁটা কি বউ পিটিয়ে জোর করে নেওয়ার জিনিস। আপনার যদি ডিগনিটি থাকে। ড. মাসুদ ইকবাল আপনি বিভিন্ন পত্রিকায় এ ধরনের কাজ করেছেন। দয়া করে আপনি আদালতের বিষয় নিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে আমি তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করতে বাধ্য হবো। কারণ আপনি যা করেছন আমার পরিবারের মানহানি হয়েছে। যে সমস্ত আমার ফেসবুক বন্ধুরা শেয়ার করেছেন আমি তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করেতে বাধ্য হবো।

আমি জানি আমার অনেক বন্ধু আমাকে সাপোর্ট করেছে। দুই-একজন খারাপ পারসন লিংক শেয়ার করেছে। আমার অন্য ফ্রেন্ডরা জানে আমি কতদিন আগে বিয়ে করেছি। কার সাথে সংসার করছি। ২২ বছর ধরে আমার সংসার। সেইবা আমার সাথে থাকবে কেন আমি যদি কারো ওয়াইফ হই। ওয়াইফ হলে নারী নির্যাতানের মামলা দিয়েছি ৪ বছর আগে। উনি মামলা দিয়েছেন সম্ভবত এক বছর আগের ঘঁটনা। তো, আমার কথা এ ৪ বছর কি উনি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন? আমি কারো বউ হলে ভাই পরের দিনই শালিস হওয়ার কথা, বিচার হওয়ার কথা। আমার মনে হয় এ ধরনের নোংরা বিষয় নিয়ে পত্রিকায় কমেন্ট করবেন না। কারণ বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কারো কথা বলা উচিত নয়। এটা নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার-আপনার নেই।

আমি জানি না সাংবাদিক ভাইয়েরা যেখানে শাহবাগে আপনাদের দুইজন সাংবাদিককে বেধড়ক পিটেয়েছে পুলিশ, সেটার বিরুদ্ধে না যেয়ে আপনারা মজাদার একটা খবর সত্য-মিথ্যা আমার সাথে কথা না বলে আমার হাজব্যান্ডের সাথে কথা না বলে লিখে দিচ্ছেন। আসলে বলার ভাষা পাচ্ছি না। বারবার পত্রিকায় যেয়ে প্রতিবাদ লিপি দেওয়া সম্ভব না।

যে সমস্ত বন্ধু নামের শক্ররা কমেন্ট করেছন শেয়ার করেছেন দয়া করে আমার ফেসবুক থেকে চলে যান। যে সমস্ত বন্ধু আমেরিকা থেকে ইনা, আরো শুভ,  বেবি,  আরজু, অনেকে- নাদিয়া আমার সাপোর্ট দিয়েছেন। যারা শেয়ার করেছে বলেছে কেমন কথা শারমিন। যারা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন। ভেরি মাচ গ্রেটফুল অল ইউ নট অনলি মাই ফ্রেন্ডস মাই অল স্কুল ফ্রেন্ডস, ডক্টর অ্যান্ড কলিগ। ড. মাসুদ আপনি আদালতের জিনিস নিয়ে দেড় মাস জেল খেটেছেন। আপনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। আপনি আজেবাজে কথা বলে ইয়েলো সাংবাদিকতা করিয়ে আপনি উদ্ধার পাবেন? কেস থেকে উদ্ধার পাবেন এঁটা সম্পূর্ণ ভুল।

কারণ আমাকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে, হেরেজ করে বা আমার চেম্বারে মাস্তান পাঠিয়ে, পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে কোন লাভ হবে না। আমি কোন সেলিব্রিটি না, নায়িকা-গায়িকা না, আমি সাধারণ একজন ডাক্তার। আমি মন্ত্রী-এমপি না, না বিরোধী দলীয় নেতা। আমি চাকরি করি সরকারি হাসপাতালে। আমি একজন সাধারণ ডাক্তার। আমি আশা করি আপনি আপনার ডিগনিটি নিয়ে চলবেন। আমাকেও আমার ডিগনিটি নিয়ে থাকতে দিবেন। খোলা চিঠির দরকার নেই।

আপনার বলার থাকলে আমার সিনিয়র স্যাররা আছেন, সামনে এসে তাদের সাথে কথা বলেন। আপনার কেস উঠিয়ে নেওয়ার জন্য আমাকে জব্দ করবেন। এঁটা সম্পূর্ণ ভুল। আপনি যদি মনে করেন আপনি বরখাস্ত ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন পত্রিকাওয়ালাদের দিয়ে লেখাবেন ইঁট’স টোটালি রং। সো আপোস কোনদিন এভাবে সম্ভব না। আপনার খোলা চিঠি পত্রিকায় দিয়ে না। আপনি সামনে আসেন। সাহস থাকলে সামনে আসেন। আমার ফেসবুক আইডি ২০১২ থেকে। আপনার সাথে আমি কাজই করেছি ২০১২ সালে। তারপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কানাডা যাই। সরকারের কাছ থেকে আপনি মিথ্যা ছুটি নিয়ে কানাডা গিয়েছেন। প্লিজ আপনি এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।

যারা না জেনে কমেন্ট ও শেয়ার করছেন— আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো। আপনারা ডিগনিটি নিয়ে থাকেন। কালের কন্ঠে পত্রিকা প্রতিবাদ ছাপিয়েছে তাদেরকে ধন্যবাদ। কোন কোন পত্রিকা কারো সাথে কথা না বলে ইয়েলো সাংবাদিকার সাথে জড়িত এক দুই পারসন কি টেন পারসন। এসব কাজ বন্ধ করেন। পারলে ভালো নিউজগুলো ছাপান। ডাক্তার সাংবাদিক সবাই খারাপ তা নয়। কয়েকজনের জন্য সবার দুর্নাম হয়। এমন কাজ করবেন না অন্যকে মর্যাদাহীন অবস্থায় ফেলে। আমার তো মনে হচ্ছে দেশে থেকে কাজ করাটা কঠিন হয়ে যাবে কিছু মানুষের জন্য। সো ইউ হেব টু বি কেয়ারফুল।

-পরিবর্তন ডটকম

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com