ঝুলে আছে কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ঢাকা মহানগর, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পুনর্গঠন

৩৯ বার পঠিত

অাদিত্ব্য কামাল #  ষষ্ঠ কউন্সিলের পর ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। ঠিক কবে নাগাদ সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্বে সাজবে বিএনপি, তাও অনেকটা রহস্যেঘেরা। শিগগিরই কমিটি হবে, দলের শীর্ষ নেতারা এমন কথা বললেও কার্যত যত দেরি হচ্ছে, ততই বিএনপির তূণমূলে হতাশা বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন একটাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে, কেন এত বিলম্ব?

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কমিটি গঠনের মাঝপথে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় মূলত কমিটি গঠনের কার্যক্রম বেশ কিছুদিন থমকে থাকে। তখন দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রকৃত তথ্য জেনে চেয়ারপারসন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা অবলম্বন করে অগ্রসর হন। দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শ নেন তিনি। জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদে নেতা মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়ে আছে। খালেদা জিয়ার নির্দেশ দিলেই তা ঘোষণা করা হবে। তবে বিষয়ভিত্তিক উপ কমিটিসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে রমজান পেরিয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে।
এ দিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করতে পারলেও পদ পাওয়া নতুন নেতাদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠকে একটি পদ রেখে বাকি পদগুলো ছেড়ে দিতে চেয়ারপারসনের নির্দেশনার কথা নতুন নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

জানা গেছে, মহাসচিব হওয়ার তিন দিন পর গত ৩ এপ্রিল বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতার এক পদ’ দলের ভেতরে চালু করতে চেয়ারপারসনের কাছে বাকি দু’টি পদ ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন মির্জা ফখরুল। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে এ পর্যন্ত তিন দফায় ৪২ জন নেতার নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। যাদের প্রায় সবারই একাধিক পদ রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পদক পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন মুজিবুর রহমান সারোয়ার। তিনি বরিশাল মহানগর বিএনপিরও সভাপতি। যুববিষয়ক সম্পাদক থেকে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে। এই পদের বাইরে যুবদলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য তিনি। শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক থেকে খায়রুল কবির খোকন হয়েছেন যুগ্ম মহাসচিব। তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি।

স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক থেকে যুগ্ম মহাসচিব হওয়া হাবিব-উন-নবী খান সোহেল স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে যুগ্ম মহাসচিব হওয়া লায়ন আসলাম চৌধুরী (বর্তমানে কারাবন্দী) চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক। আর সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে ফজলুল হক মিলন গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতিসহ আরো কয়েকটি পদে আছেন, ডা: শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা মহানগরের সভাপতি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি, আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আবদুস সালাম আজাদ যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি, আবুল হাসেম বক্কর ও সেলিমুজ্জামান সেলিম যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন, শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি, ওয়ারেস আলী মামুন জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, মোশতাক হোসেন কুমিল্লা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক, আবদুল আউয়াল খান মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, মো: শামসুজ্জামান (জামান) নীলফামারী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। জানা গেছে, এদের কেউ কেউ চেয়ারপারসনকে বাকি পদ ছাড়তে বিলম্বের কারণ অবহিত করেছেন। কেউ কেউ নতুন পদে থাকবেন না জেলা পর্যায়েই রাজনীতি করবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। আবার কেউ বিশেষ বিবেচনায় একাধিক পদে থাকা যায় কি নাÑসেই অপোয় রয়েছেন।

জানা গেছে, নতুন পদ পাওয়া যুগ্মমহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক বিষয়াদি ছাড়াও সাংগঠনিক বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম কিভাবে আরো বেগবান করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে।

জানা যায়, বৈঠকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সবাই একমত হন। সাংগঠনিক জেলাগুলোর কোথায় কী ‘দুর্বলতা’ রয়েছে তা সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের লিখিতভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়। সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের একযোগে কাজ করার কথাও বলা হয়। কেন্দ্র থেকে সব চিঠি সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি সহসাংগঠনিক সম্পাদকদেরও দেয়া হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় নেতাদের কার কী ভূমিকা তাও প্রতিবেদন আকারে কেন্দ্রে জমা দিতে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়। বিএনপির এক নেতা জানান, আগামীতে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের েেত্র এ রিপোর্ট ধরেই কাজ করবে বিএনপি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হবে। বৈঠকে বরিশালের এক নেতা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দল গোছিয়ে দ্রুত সামনে এগোতে পারছে না বিএনপি। সিদ্ধান্তে ধীর গতির কারণে এখনো আটকে আছে কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ঝুলে আছে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। গুরুত্বপূর্ণ এসব কমিটি দীর্ঘ দিন ধরেই হচ্ছে হচ্ছে করে, হচ্ছে না। এর ফলে পদপ্রত্যাশী নেতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে দলের চেয়ারপারসন একান্তভাবে কাজ করছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে আরো মাসখানেকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে রমজানের আগেই গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু পদে নেতা মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঘোষণা করা হতে পারে দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, সম্পাদক ও সহসম্পাদক পদগুলো। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ষষ্ঠ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক ২৫টি উপ কমিটি গঠনে বেশ সময় লাগবে বলে দলের সিনিয়র এক নেতা গতকাল জানিয়েছেন।

গত ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনটি ধাপে মাত্র ৪১টি পদে নেতা মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার কমিটির কলেবর বাড়বে। কেন্দ্রীয় কমিটি ৫০০ সদস্য বিশিষ্ট হতে পারে। উপ-কমিটি নিয়ে এর আকার হতে পারে ৮’শর মতো। জানা গেছে, বিশাল এই কমিটি গঠনের পথে কিছু অভিযোগ ফলাও করে সামনে আসায় দলের হাইকমান্ডকে কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন শুভাকাক্সী বুদ্ধিজীবীরা। বিএনপি প্রধানও চাচ্ছেন দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে। এ বিষয়ে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও কথা বলেছেন।

জানা গেছে, ঘোষিত পদগুলোতে বেশ কিছু নতুন মুখ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাওয়ায় দলের রাজনীতির সাথে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত মধ্যমসারির নেতাদের ‘পদায়ন’ নিয়ে কিছুটা ভাবতে হচ্ছে হাইকমান্ডকে। কাকে কোন পদে দলে ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং নেতারাও সন্তুষ্ট থাকবেন তা নিয়ে পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত সিনিয়র কাউকে অঙ্গসংগঠনের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক করা হলে, দলে তার স্ট্যাটাস কী হবে, তা-ও ঠিক করা হচ্ছে। ফখরুল। সূত্র মতে, নতুন কমিটিতে দুই মহিলা সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়েও দলের সর্বস্তরে কথা উঠেছে। বলা হচ্ছে এই দুজনকে পদায়ন করতে গিয়ে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেকেই কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদের অবদানের কথা অনেকে স্বীকার করলেও হঠাৎ করে তাঁকে ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক করায় দলের ভেতরে-বাইরে প্রায় সবাই বিস্মিত। কারণ রাজনীতিতে তিনি নবীন।

কথিত আছে শিমুল বিশ্বাসের রক্ষিতা হিসেবে আছে তার অসম্ভব ক্ষতি। তার সাড়া রাত কাটে গুলশানের চেয়ারপার্সনের কারযালয়ের বিশেষ কক্ষে চেয়ারপার্সনের একজন উপদেষ্টা এবং শিমুল বিশ্বাসের মনোরঞ্জনের পুরস্কার হল সামা হুসেন দেবিশার। সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার আগে তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি; যেটি আবার বিএনপির অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা হলো শামা নিজেই এত বড় পদ চাননি। দলে একটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ পেলেই তিনি খুশি ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। তাঁকে সাংগঠনিক সম্পাদক করায় দলে সিনিয়র-জুনিয়র সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সাবেক ছাত্র নেত্রীরা প্রায় সবাই এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ।

বাবা কে এম ওবায়েদুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করা ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাদা মিয়াকে এখন রাজনীতি করতে হবে শামার নির্দেশনায়। একইভাবে তিনবারের মেয়র ও এমপি রাজবাড়ী জেলার আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে করা হয়েছে সহসাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে তিনিও পদমর্যাদায় শামার নিচে চলে গেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর ওই দুই নেতাসহ অনেকেই শামার বিষয়ে খালেদা জিয়ার কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানতে চাইলে শাহাজাদা মিয়া অবশ্য এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। আমদের প্রতিবেক তিনি বলেন, ‘আমি পদ নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমার নেতা ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা বড় পদ পাওয়ায় আমি খুশি।’ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ‘এখন কিছু বলতে চাই না।শিমুল বিশ্বাস কিভহু নেতার বিশেষ বিবেচনা করে তাকে শ্যামা ওবায়কে অতিমুল্যেইত ক তাজাক সময় হলে বলব।’প্রসঙ্গত, শামা ওবায়েদ ও বিলকিস শিরিনের বড় পদের উদাহরণ দিতে গিয়েই সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে।

বহু বছরের পরীক্ষিত নেতা শিরিন সুলতানা ও রেহেনা আক্তার রানু ওই দুজনের উদাহরণ টেনে তাঁদের চেয়ে সিনিয়র পদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন খালেদা জিয়ার কাছে। আর এতেই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা এখন শিরিনের বদলে আরেক মহিলা নেত্রী সুলতানা আহমেদের হাত ধরে হাঁটছেন, যা নিয়ে বিএনপিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার আগে বিলকিস শিরিন ছিলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও মহানগরী মহিলা দলের সভাপতি। কিন্তু ওই জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র সাত-আটজন নেতাকে টপকে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। অনেকের মতে, শামার পদকে যৌক্তিক করতেই বিলকিস শিরিনকে একই পদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সবার সঙ্গে সদ্ভাব রেখে তিনি দলকে কতটা শক্তিশালী করতে পারবেন তা নিয়ে প্রায় সবারই সংশয় রয়েছে।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতারা অবশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে ‘ত্যাগী ও যোগ্য’ নেতাদের দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। কমিটি ঘোষণায় বিলম্বের কারণে তারা কিছুটা হতাশ হয়ে পরেছেন। চট্টগ্রাম বিএনপির এক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, কমিটি গঠনের দীর্ঘসূত্রতায় তা ম্রীয়মাণ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে নতুন নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপি সাজানোর কথা বলা হলেও, সিদ্ধান্ত আসছে না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরকে সাজাতে দুই ধরনের মত রয়েছে। প্রথমত, উত্তর ও দক্ষিণ এ দুই ভাগে মহানগরকে বিভক্ত করে দু’টি কমিটি দেয়া, দ্বিতীয়ত, অবিভক্ত রেখেই সিনিয়র কাউকে নেতৃত্বে আনা। দুই ভাগে ভাগ করা হলে মহানগরের রাজনীতির সাথে জড়িত অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। আর অবিভক্ত রাখা হলে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি হবে।

দলের সিনিয়র এক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন দু’ভাগে বিভক্ত করার বিপক্ষে ছিল বিএনপি। সে ক্ষেত্রে মহানগর কমিটি দু’ভাগে ভাগ করা নাও হতে পারে। এই চিন্তা থেকে দলের ‘প্রভাবশালী ও গ্রহণযোগ্য’ একজন নেতাকে মহানগরের সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দুই সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি হয়ে হয়েও হচ্ছে না। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এ মাসের মধ্যেই এই দু’টি সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে, যদিও দলের কেউ কেউ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে অঙ্গসংগঠনের কমিটি দেয়ার পক্ষপাতী নন। তবে এ দু’টি সংগঠনের নেতৃত্বে আসছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। শীর্ষ নেতৃত্বও প্রায় চূড়ান্ত করেছে ফেলেছে হাইকমান্ড।

জানা গেছে, যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানী, সেক্রেটারি সাইফুল আলম নীরব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোজ্জামেল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কেউ কেউ সাবেক ছাত্রনেতা সানাউল হক নিরু ও কামরুজ্জামান রতনকেও নেতৃত্বে আনার সুপারিশ করছেন।

অন্য দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুর যে কেউ নতুন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। যুবদলের এক নেতা বলেছেন, এই দুটো অঙ্গসংগঠনে ত্যাগীদের জায়গা দেয়া না হলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বিশ্বস্ত সুত্র্যে জানা যায় শেষ পর্যন্ত যুবদলের সভাপতি হচ্ছেন সাইফুল আলম নীরব ও সাধারন সম্পাদক হচ্ছেন মোঃ মোজ্জামেল হক। রোজার মধ্যেই কমিটি ঘোষণা হবে। আর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হচ্ছেন মীর সরাফত আলী সপু ও সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন সাইফুল বারী বাবু। আর অন্যদের বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আদিত্ব্য কামাল, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি #

Adithay Kamal House#412, Alhampara, Bhadughar 3400 Brahmanbaria, Bangladesh Mobile : 01713-209385

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com