গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই

৩৭ বার পঠিত

বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতির অবসানকল্পে সকলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা এসব কথা বলেন।

শাসক দলের সরাসরি মদদ ও আশকারায় তাদের চ্যালা-চামুণ্ডারা দেশজুড়ে উচ্ছৃঙ্খলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বিবৃতিতে খালেদা বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে জবরধস্তি ও অপকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছে বর্তমান অবৈধ সরকার। আইনের শাসনকে পদদলিত করে দেশে পেশিশক্তিনির্ভর এক বর্বর আওয়ামী দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়ার বেপরোয়া ও ধারাবাহিক অপপ্রয়াসে সচেতন নাগরিক সমাজ আজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই শাসকদের সরাসরি মদদ ও আশকারায় তাদের চ্যালা-চামুণ্ডারা দেশজুড়ে উচ্ছৃঙ্খলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ ও যথেচ্ছ অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর আইনসম্মত পন্থায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো অবকাশ এরা রাখেনি। তারপরেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রশাসন, পুলিশ, সীমান্তরক্ষীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দৈহিক হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপি প্রধান বলেন, ‘অন্যায় আবদার রক্ষা ও বেআইনি নির্দেশ পালন এবং বিধিবহির্ভূত সম্মান ও সুযোগ দিতে অস্বীকার করলেই রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তা ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।’

এ প্রসঙ্গে, খালেদা জিয়া তার নির্বাচনী এলাকা ফেনীর পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম রকিব হায়দারকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তাকে সরকারি কর্তব্য পালনরত অবস্থায় প্রকাশ্যে মারধর করে আহত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাধে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এখন কতোটা অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনা তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। সারা দেশে এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। কোনো ঘটনা নিয়ে বেশি তোলপাড় হলে চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার বা সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শাসক দলের কোনো নেতা-কর্মী আদালত থেকে দোষী সাব্যস্ত হলেও ফাঁক-ফোঁকড়ে বিশেষ অনুকম্পায় তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আওয়ামী নেতা-কর্মীরাও ছাড়া পেয়ে নতুন নতুন ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত করছে। অপরদিকে, বিনা দোষে মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের অগণিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা দুঃসহ নিপীড়ন ভোগ করছেন। ক্ষমতার অবৈধ দখলদারিত্ব যেন শাসকগোষ্ঠীকে স্বেচ্ছাচারিতার অবাধ ছাড়পত্র দিয়েছে। তারা দেশকে এক অসভ্যতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমি পরশুরামের ইউএনও’র ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com