খুলনার ৪৪ রাইচ মিল কালো তালিকায়!

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ দক্ষিণাঞ্চলের খুলনায় ৪৪টি রাইচ মিলের নাম কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বোরো সংগ্রহ অভিযানে সাড়া না দেওয়া, সরকারের আপদকালীন মজুদে অসহযোগিতা এবং অবৈধভাবে চাল মজুদ করায় মিলগুলো কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত এসব মিল থেকে সরকার চাল না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি গুদামে মজুদে সহায়তা করার জন্য রাইচ মিল মালিক সমিতি বোরো সংগ্রহ অভিযানে চালের মূল্য কেজিপ্রতি দু’টাকা বাড়ানোর দাবি করেছে। চিংড়ি ও পাটখাতের ন্যায় চালে ভর্তুকির দাবির যৌক্তিকতা মিল মালিক সমিতি তুলে ধরেছে।

বোরো সংগ্রহ অভিযানে মে মাসের প্রথম দিকে ৮ হাজার ৩৩৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ৩০৩ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যমাত্রার আলোকে খাদ্য বিভাগের সাথে মে মাসে স্থানীয় ১১৬টি রাইচ মিলের চুক্তি হয়। বাজার দরের সঙ্গে সরকারি দরের তারতম্য হওয়ায় মিল মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে খাদ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনে। নতুন করে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ২ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ২৯৪ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের চুক্তি হয়। রবিবার পর্যন্ত ৫৭৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ২৩২ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে।
খাদ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, অবৈধভাবে খাদ্য মজুদ করায় কালো তালিকাভুক্ত রাইচ মিলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফুলতলা উপজেলার সরদার রাইচ মিল, অগ্রণী, মহানগরীর বয়রা এলাকার হাসান হোসেন রাইচ মিল, মোখলেসুর রহমান রাইচ মিল, বানরগাতি এলাকার এমদাদুল হক রাইচ মিল, লবণচরার কর্ণফুলি রাইচ মিল, এফ রহমান রাইচ মিল, সুন্দরবন রাইচ মিল, ফজলু রাইচ মিল ও সোনালী রাইচ মিল।

খুলনা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন জানান, কালো তালিকাভুক্ত মিলগুলোর সাথে নিয়ম অনুযায়ী আগামী তিন বছরের মধ্যে চুক্তি হবে না। তারা সরকারের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি বলেন, চালের সংকট মেটাতে ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত চালের জাহাজ আগামী মাসের প্রথম দিকে মংলা বন্দরে এসে পৌঁছাবে। সূত্রমতে ৮ হাজার মেট্রিক টন চাল মংলা বন্দরে খালাস হবে। আমদানিকৃত চাল পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, কারাগার, বন্যা ও ভিজিএফ কর্মসূচিতে বিতরণ করা হবে।

খুলনা  জেলা রাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল বোরো সংগ্রহ অভিযান সম্পর্কে এ প্রতিনিধির কাছে উল্লেখ করেন, জনস্বার্থে আপদকালীন মজুদ বাড়াতে লোকসান মেনে নিয়ে তারা সরকারকে সহযোগিতা করছেন। সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পেছনে বাজারদরের চেয়ে সরকারি মূল্য কম, অনুন্নতমানের ধান এবং চালের উৎপাদন খরচ না ওঠাকে উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের সংগ্রহ মূল্য প্রতিকেজি ৩৪ টাকা থেকে ৩৬ টাকা করার দাবি তুলেছেন। তিনি যুক্তি তুলে ধরেন, আমদানিকৃত চাল সরকার ৪০ টাকা দরে কিনতে পারলে স্থানীয় রাইচ মিলারদের কেজিপ্রতি দু’টাকা ভুর্তকি দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, তার প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত ৮০ মেট্রিক টন চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করেছে।

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৬৬ বার পঠিত

Leave a Reply