কবি মোক্তার হোসেন-এর “একটি লাল ঘুড়ি ও আমি” বইটির প্রকাশনা উৎসব শুক্রবার

২৬৩ বার পঠিত

প্রায় দুই যুগ কাব্যচর্চার পর একুশে বইমেলা-২০১৭ তে বের হয়েছে কবি মোক্তাতার হোসেনের ৩ টি বই। কবি’র প্রথম কাব্যগন্থ “একটি লাল ঘুড়ি ও আমি” মোড়ক উন্মোচন করা হবে আগামী ১০ ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায়। অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমীর লিটলম্যাগ চত্বরে। বইটি প্রকাশ করেছে জেব্রাক্রসিং প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন নাজমুল হাসান রাহাত।

দীর্ঘ সময় নিয়ে বই বের করলেন কবি। তিলতিল করে কবিতা ধারণ করেছেন তার চিন্তা চেতনায়, লালন করেছেন আপন সত্তায়, আপন আলোয়। প্রথম শ্রেণির জাতীয় পত্রিকা ও লিটলম্যাগেনিয়মিত কবি মোক্তার হোসেন এর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বই বের করার মত দুঃসাহস করেননি। সুন্দর সাবলিল ভাষা, চমৎকার উপমা কাব্যগন্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই তার কবিতা পড়ে সচেতন পাঠক সহজেই তৃপ্তি পাবেন বলে মনে করছি। চমৎকার প্রচ্ছদ ও ঝকঝক ছাপা কাগজে লিখা বইটির শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা।

অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মোক্ত থাকবে। তাই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সকল সাহিত্য প্রেমী লেখক লেখিকাকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ রইল।

পাঠ করার সুবিধার্থে বইটির একগুচ্ছ কবিতা তুলে ধরা হলো……

সম্বিত ফিরে এলে

সম্বিত ফিরে এলে দেখি পিছিয়ে পড়েছি অনেকটা পথ।
প্রতিটি পদচিহ্ন ঢাকা পড়ে গেছে ধুলোর আস্তরণে…
এক নিরীহ পথিক আমি হাতড়ে খুঁজে বেড়াই সোনালি অতীত।
কাল্পনিক ভবিষ্যৎ এখন কেবলই মূল্যহীন…
স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন আর দেখিনা এখন!
চোখ বুজলেই শুধু দেখি রাজনের ছলছল শৈশব …
পঁয়ষট্টিটি আঘাতের প্রতিটি ক্ষত অনুভব করি শিরাউপশিরায়
মাতৃভূমির পরতে পরতে জমে থাকা সমস্ত গ্যাস
জমাট বাঁধে পাকস্থলীর ঠিক মাঝখানে।
আমি শুধু ভুলতে চাই আমারও
একটি ছোট্ট তুলতুলে শিশু আছে সম্বিত ফিরে না পেলেই হয়তো
মাতৃগর্ভে অনাগত শিশুর গুলিবিদ্ধ শরীরের নিরন্তর অভিশাপের ভাগ পেতে হতো না।

প্রকৃতির পরিপুরক নারী!

প্রকৃতির পরিপুরক নারী! দখিনা বাতাসের শীতলতায় সতত বহমান
কোমলতায় হৃদয়ের অবগাহনে পূর্ণতা পেয়ে যায় ধরণী
প্রেমময়তার মায়াজালে অনদিকাল হতে বন্দীত্ব বরণ করে প্রেমিকের দল!
দিগন্তের ঠিকানা খুঁজে পেতে শুধু পলকভরে
চোখের গহীনে চাইলেই পেয়ে যাবে নিশ্চত!
কপোল গলে পড়া স্নিগ্ধতার কাছে হার মেনে যায় শরতের আকাশ।
শিশুদের কোলাহল বেজে চলে তার শিরায় উপশিরায়!
কী যে এক অসীম স্নেহময়তার বিচ্ছুরণ প্রতিনিয়ত ঢেকে দেয় হাজার হতাশা।
নদীর কল কল ঢেউয়ে সূচনা হয়তো এই নারীর প্রশস্ত বুকের মাঝখান থেকে!
তাই আর সাগরের তীরে গিয়ে বালুকাবেলায় সন্ধার সূর্যাস্ত দেখি না।
প্রকৃতির আদি থেকে অন্তের সন্ধান আমি পেয়ে গেছি নারীর ছায়ায় ছায়ায়!

সত্যালাপ

এটা সত্য, তুমি সুন্দর!
এটাও সত্য, আমি উপমার ব্যবহার জানি না।
সবচেয়ে বড় সত্য,
আমি কবিতা লিখতে ভুলে গেছি!

সবুজ শিশু

চঞ্চল প্রজাপতির দেখানো পথে পথে-
প্রান্তরে ছুটে চলে সবুজ শিশু!
ছুঁয়ে যায় ঘাসফুল ছুঁয়ে দেয় কাশফুল ছুঁয়ে দেয় শিশিরের মুক্তার দানা;
সবুজ শিশুটির সাথে এভাবেই চলে- মেঘেদের আনাগোনা।
হাত বাড়ালেই মেঘ এসে যায়! চোখ বুলালেই নদী হয়ে যায়!
পা বাড়ালেই পথ মিশে যায় ফুলেদের দেশে;
অস্ফুট স্বরে তারই সুর বেজে ওঠে- ভোরের আকাশে!
দখিনা বাতাসের ছায়ায় আনমনে ভেসে ভেসে দিগন্তে বয়ে চলে ফাগুনের শিশু!
ঢেলে যায় যত রঙ মেলে দেয় যত ঢঙ
এভাবেই কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসন্তের আগমন;
ফুলে ফুলে বাজে তাই ভ্রোমরের গান হয়ে- বসন্তের অণুরণন!
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com