এসপিপত্নী মিতু হত্যা: কারাবন্দি জেএমবি সদস্য বুলবুলের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন

৩৬ বার পঠিত

পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় মঙ্গলবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাবন্দি এক জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে মোহাম্মদ বুলবুলকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে চট্টগ্রাম পুলিশ। দুপুরে বুলবুলকে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করে পুলিশ। বিকেলে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর নিহত মিতুর স্বামী তৎকালীন অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগরে অভিযান চালিয়ে বুলবুলসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্ফোরক শাখার প্রধান মো. জাবেদ ওরফে জায়েদকে নিয়ে গোয়েন্দারা আরেকটি অভিযানে গেলে সে কুয়াইশ এলাকায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা যান। এরআগে গত রোববার মিতু হত্যার ঘটনায় আটক ২ দুই জনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এরআগে এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলানো হয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) আনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক কাজী রকিব উদ্দিন এর আগে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান তিনি। এ মামলার গতি ফিরেতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার আবু নসুর গুন্নু ও শাহ জামান ওরফে রবিন নামে দুজনকে আদালতে হাজির করার পর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে চট্টগ্রাম আদালত।

শনিবার মিতু হত্যায় ঘটনায় চট্টগ্রামের শীতলঝর্না থেকে শাহ জামান ওরফে রবিন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তিনি এ ঘটনার ‘মূল হোতা সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের ধারনা—শনিবার চট্টগ্রাম পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে। নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শীতল ঝরনা এলাকা থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশেই তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। তিনি ঘটনার ‘মূল হোতা’হতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

হত্যার পর রাতে পাঁচলাইশ থানার এক এসআইকে দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে মামলার করার সিদ্ধান্ত হলেও গত সোমবার বাবুল আক্তার নিজে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিবিরের সাবেক এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা মাইক্রোবাসের চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এদিকে, মিতু হত্যায় আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা আনসার-আল-ইসলাম নিন্দা জানিয়েছে— এ তথ্য প্রকাশ করেছে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। শুক্রবার সাইটের ওয়েবসাইটে আনসার-আল-ইসলামের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ, এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com