আজ মহাশ্বেতা দেবীর জন্মদিন

১৬ বার পঠিত

সুকুমার মিত্র, কলকাতা # আজ মহাশ্বেতা দেবীর জন্মদিন। তাঁকে আমাদের প্রণাম। তিনি এমন এক বটবৃক্ষ যার তলায় আমরা আপদে বিপদে ঠাঁই পাই, তা ব্যাক্তিগত বা সমষ্টি। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তাঁর অবদান যাঁরা অস্বীকার করেন তাঁরা আসলে অন্তরে অন্ধ। যখন দেশ ও দেশের মানুষ বিপদে পড়েছেন তিনি সেখানেই ছুটেছেন। বহুদিন এক সঙ্গে নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি মাঠে, ময়দানে, ত্রাণের কাজে, পরিবেশ আন্দোলনে, খাদান বিরোধী আন্দোলনে, বেআইনি ইটভাটা নিয়ে।

 

বর্তিকার বিশেষ পরিবেশ সংখ্যাই তো দিদি সেদিন আমাদের পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে করে ফেললেন দ্রুত। গুজরাট দাঙ্গা, ইরাকে মার্কিন হামলা সবেতেই দিদিকে নিয়ে মাঠে নেমেছি। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, জঙ্গলমহলে তো আর বিশ্রাম ছিল না আমাদের। । বালিগঞ্জ স্টেশন রোডের বাড়ি থেকে দিদির নির্দেশে, বা আমার নির্দেশে দিদি এক সঙ্গে পথচলা। বহু খুনসুটি, মজা, বির্তকে দিনগুলি ভালই কেটেছে। দিদি সুস্থ থাকুন, আমাদের ভরসার ভর কেন্দ্র মহাশ্বেতা দেবী। আর জীবন সংগ্রামে অনুপ্রেণা দিতে বুকে টেনে নিয়ে সান্তনা দিয়েছেন মায়ের মত করে। দিদি আমার মায়ের থেকে ঢের বড়। তবে দিদি, দিদিই। সংগ্রাম, প্রতিবাদের নাম মহাশ্বেতা দেবী। তাঁকে নেতা মেনে চলেছি এখনও…।

মহাশ্বেতা দেবীর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ  

মহাশ্বেতা দেবী জন্ম ১৪ জানুয়ারি, ১৯২৬  জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক ও মানবাধিকার আন্দোলন কর্মী। তিনি ১৯২৬ খ্রীষ্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন । তিনি সাঁওতাল ইত্যাদি উপজাতিদের ওপর কাজ এবং লেখার জন্য বিখ্যাত । তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন । তাঁর লেখা শতাধিক বইয়ের মধ্যে হাজার চুরাশির মা অন্যতম। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে ২০০৭ খ্রীষ্টাব্দে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জীবন

মহাশ্বেতা দেবী একটি মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তাঁর পিতা মনীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং তাঁর কাকা ছিলেন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটক। মহাশ্বেতা দেবী শিক্ষালাভের জন্য শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন । তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন । পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজীতে এম এ ডিগ্রী লাভ করেন ।

কর্মজীবন

১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বিজয়গড় কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন । এই সময়েই তিনি একজন সাংবাদিক এবং লেখিকা হিসাবে কাজ করেন। পরবর্তীকালে তিনি বিখ্যাত হন মূলত পশ্চিমবাংলার উপজাতি এবং নারীদের ওপর তাঁর কাজের জন্য । তিনি বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাতি এবং মেয়েদের উপর শোষণ এবং বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক কালে মহাশ্বেতা দেবী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্পনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন । সরকার কর্তৃক বিপুল পরিমাণে কৃষিজমি অধিগ্রহণ এবং স্বল্পমূল্যে তা শিল্পপতিদের কাছে বিতরণের নীতির তিনি কড়া সমালোচক । এছাড়া তিনি শান্তিনিকেতনে প্রোমোটারি ব্যবসার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছেন ।

গ্রন্থ তালিকা

  • অরণ্যের অধিকার
  • নৈঋতে মেঘ
  • অগ্নিগর্ভ
  • গণেশ মহিমা
  • হাজার চুরাশীর মা
  • চোট্টি মুণ্ডা এবং তার তীর
  • শালগিরার ডাকে
  • নীলছবি (১৯৮৬, অধুনা, ঢাকা।)
  • বন্দোবস্তী
  • আই.পি.সি ৩৭৫
  • সাম্প্রতিক
  • প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে
  • মুখ
  • কৃষ্ণা দ্বাদশী
  • ৬ই ডিসেম্বরের পর
  • বেনে বৌ
  • মিলুর জন্য
  • ঘোরানো সিঁড়ি
  • স্তনদায়িনী
  • লায়লী আশমানের আয়না
  • আঁধার মানিক
  • যাবজ্জীবন
  • শিকার পর্ব
  • অগ্নিগর্ভ
  • ব্রেস্ট গিভার
  • ডাস্ট অন দ্য রোড
  • আওয়ার নন-ভেজ কাউ
  • বাসাই টুডু
  • তিতু মীর
  • রুদালী
  • উনত্রিশ নম্বর ধারার আসামী
  • প্রস্থানপর্ব
  • ব্যাধখন্ড

পুরস্কার

  • পদ্মবিভূষণ (ভারত সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার ২০০৬)
  • রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার (১৯৯৭)
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (সাহিত্য একাডেমির সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান)
  • সার্ক সাহিত্য পুরস্কার (২০০৭)

তথ্যসূত্র : 

উইকিপিডিয়া

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com