অসহিষ্ণুতা সৃষ্টির মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীদের রাজনীতির লক্ষ‌্যপূরণ

সুকুমার মিত্র, কলকাতা # অসহিষ্ণুতা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল। দেশের কোটি কোটি মানুষ কেন্দ্রের শাসক ও শাসক দলের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে। কেন এই অসহিষ্ণুতার পরিবেশ? দেশের বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-নানা মতের অধিকার- সামাজিক সংহতি-বহুত্ববাদ এসবই ধ্বংস করে সংঘ পরিবার সুপরিকল্পিতভাবে দেশ জুড়ে একদিকে সাম্প্রদায়িক হিংসা ও পাশাপাশি দলিত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণাকে গণ হিস্টিরিয়ায় পরিণত করতে চায়। কারণ কিছুই না, পায়ের তলায় তাদের সরে যাওয়া মাটিকে ধরা রাখার জন্য এটাই বর্তমান শাসক দলের একমাত্র অস্ত্র। নরেন্দ্র মোদীর জমানায় প্রথম ৩০০ দিনে ৬০০টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে ভারতে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদরা সাম্প্রদায়িকতার বিষ দেশের সংসদে ও দেশজুড়ে উগরে দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলছেন, অসহিষ্ণুতার কোনও ঘটনা ঘটছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখে কুলুপ।

  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ মর্নিং ওয়াক করে ফেরার পথে মহারাষ্ট্রের সিপিআই নেতা গোবিন্দ পানসরে গুলিবিদ্ধ হন। কুংস্কার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি।
  • ৩০ আগস্ট, ২০১৫ কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে বিশিষ্ট সাহিত্যিক এম এম কালবর্গি নিজের বাড়িতেই গুলিবিদ্ধ হন।
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ উত্তরপ্রদেশের দাদরির কাছে বিসরা গ্রামে গোমাংস খাওয়ার গুজব রটিয়ে পিটিয়ে মারা হয়।
  • ৯অক্টোবর, ২০১৫ সম্রাট গুলাম আলির গানের অনুষ্টান বাতিল করা হল।
  • ১২ অক্টোবর, ২০১৫ প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ কসুরির বই  প্রকাশ অনুষ্ঠান মুম্বইয়ে সুধীন্দ্র কুলকার্নির মুখে কালি দেওয়া হয়।
  • ১৪ অক্টোবর, ২০১৫ হিমাচল প্রদেশের সারাহানের কাছে গরু পাচারের অভিযোগে ২০ বছরের ট্রাক চালককে পিটিয়ে মারা হয়।
  • এরই মাঝে হরিয়ানার এক দলিত পরিবারের দুই শিশুকে পুড়িয়ে মারল উচ্চবর্ণের কয়েকজন ব্যাক্তি।
  • ২ নভেম্বর, ২০১৫ বাছুর চুরির সন্দেহে মনিপুরে প্রধান শিক্ষ‌ক মহম্মদ হাসমদ আলিকে পিটিয়ে মারা হয়।
  • শাহরুখ খান অসহিষ্ণুতা বলায় তাকে পাকিস্তানে চলে যেতে বলা হয়।
  • আমীর খান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় তার কুশপুতুল পুড়ল, বাড়ির সামনে বিক্ষ‌োভ এমনকী খুনের হুমকি দেওয়া হল।
  • টিপু সুলতানের মত দেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদ ও বিশ্বে প্রথম ক্ষ‌েপনাস্ত্রের আবিষ্কারকের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে ও বিকৃত করতে মরিয়া প্রয়াস শুরু হয়েছে।
  • দিল্লিতে আওরঙ্গজেবের নামে রাস্তার নাম পরিবর্তন করে এ পি জে কালামের নামে করার মাধ্যমে উভয়কেই অপমান করা হল।
  • দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শহিদ ইন্দিরা গান্ধীর নামে ডাক টিকিট বাতিল করে দেওয়া হল।

 

  • অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি কি বললেন?

দেশে আদৌ কোনও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়নি।

হিটলারের নাত্সী বাহিনী এক সময় যেমন ইহুদি নিধনের জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদকে হাতিয়ার করে জার্মানীতে নামিয়ে এনেছিল সন্ত্রাস। তেমনি গোরক্ষার নাম করে বিজেপি, সংঘ পরিবার দেশে কার্যত  নামিয়ে এনেছে ফ্যাসিস্ট রাজ| প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চুপ (অসহিষ্ণুতার বাতবরণ সর্বত্র ঘৃণার বাতাবরণে আচ্ছে দিন প্রতিষ্ঠার সংকল্প কার্যকরী করা হচ্ছে| তাই সহিষ্ণুতার পক্ষে এবং অসহিষ্ণুতার বিপক্ষে খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী এবং লেখকরা তাদের বিভিন্ন পুরস্কার আর সরকারী খেতাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন| আর অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে খেতাব ফিরিয়ে দেওয়াকেও ব্যঙ্গ করছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসক শক্তি| 

অরুণ জেটলি বললেন, দেশে আদৌ কোনও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি বলছেন, বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সবচেয়ে সুন্দর প্রতিবাদ করেছেন আজন্ম ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রতীক মেদিনীপুরের পাথরার বাসিন্দা ইয়াসিন পাঠান| একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম| আযৌবন হিন্দু স্থাপত্যকে রক্ষা করে চলেছেন| তাঁর অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে প্রকৃত প্রতিবাদী অস্ত্র|তিনি বলেছেন, আমাদের বন্দুক নেই, টাকাও নেই- পুরস্কার প্রত্যাখান আমাদের অস্ত্র।নরেন্দ্র মোদীর রাজত্বকালের স্বল্প সময়ের মধ্যে সংঘ পরিবারের সদস্যদের দেশের সর্বত্র গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। আর তাঁরা ওই পদে বসে এক একজন এক ধরনের আক্রমণাত্মক কথা বলছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে। দেশের যে সমস্ত পদে যাদের বসানো হয়েছে তার কিছু নমুনা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম নিচে একটি তালিকায়ঃ-

  • ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিখ্যাত লেখক এস কে মাধবনকে সরিয়ে পাঞ্চজন্যের (আর এস এস এর মুখপত্র) সম্পাদক বলদেব শর্মাকে প্রধান করা হয়েছে।
  • ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টরিক্যাল রিসার্চের প্রধানের পদে আরএসএস মতাদর্শে বিশ্বাসী সুদর্শন রাওকে বসানো হয়েছে|
  • পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান করা হয়েছে একজন সাধারণ মানের অভিনেতা আরএসএস মতাবলম্বী বিজেপি কর্মী গজেন্দ্র চৌহানকে|
  • তথাগত রায়, ত্রিপুরার রাজ্যপাল বললেন মুসলিমরা প্রকাশ্যে শুয়োর খেলে তবেই ভারসাম্য আসবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক চুপ।
  • পদ্মনাভ বালাকৃষ্ণ আচার্য, অসমের রাজ্যপাল-  হিন্দুস্থান হিন্দুদের জন্য। এর মধ্যে কোথাও কোনও ভুল নেই। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ রাজ্যপালকে অপসারণের দাবি জানালেও তা মানা হয়নি। এক্ষ‌েত্রেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক চুপ।
  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ‌তা ও সমাজতন্ত্র রাখার দরকার ছিল না। রাজনাথ আর বেঙ্কাইয়া বললেন ধর্মনিরপেক্ষ‌তা না, পন্থা নিরপেক্ষ‌তা- ভাবুন- এরা কতাটা সহিষ্ণু। সেকুলারিজম, সোসালিজম চরিত্র বজায় রাখতে চান না। সংবিধানকে মানে না এরা। সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে ক্ষ‌মতায় এসে।

 

সারা ভারত জুড়ে এই অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরিতে যারা ১৯২৫ থেকে সক্রিয় সেই আরএসএস এর শাখা সংগঠনের তালিকা আর কার্যকলাপই প্রমাণ করবে এই মহীরূহের গোড়া কোথায় এবং কবে প্রোথিত হয়েছে|বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদের বিস্তার- সৈন্য বাহিনীতে, শিক্ষায়, কৃষকদের মধ্যে (ভারতীয় কিষান সংঘ), বিজ্ঞানীদের মধ্যে (বিজ্ঞান ভারতী), ব্যবহারজীবীদের মধ্যে (অখিল ভারতীয় অবিভক্ত পরিষদ) আদিবাসীদের মধ্যে (বনবাসী কল্যাণ আশ্রম) মহিলাদের মধ্যে (রাষ্টীয় সেবিকা সমিতি) ছাত্রদের মধ্যে (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ) বৈদেশিক বিষয় (বিদেশ বিভাগ) সামাজিক বিভাগ (সেবা ভারতী) শ্রমিকদের মধ্যে (ভারতীয় মজদুর সংঘ) এমনকি ইনটেলিজেন্স বিভাগে যেমন  রিসার্চ এন্ড এ্যানালাইটিকেল উইংগ এর অভ্যন্তরে এবং সবশেষে মিডিয়াকে নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করার জন্য সংবাদ মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে কট্টরপন্থী সংঘ পরিবারে সদস্যদের।

 

 আরএসএসের মূল কথা, ‘নো ইজম বাট ধর্ম’, বিজেপি সরকার এইভাবে এক নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন|একদিকে যেমন মহাত্মা গান্ধী ভজনা অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ নবভারতের স্রষ্টা জহরলাল নেহেরুকে ম্লান করার হীন অপচেষ্টা| অথচ গান্ধীজী এবং প্যাটেল আরএসএস সম্ন্ধে কি বলেছিলেন?

 But don’t forget, do had Hitler’s Nazis and fascists under Mussolini … it (the RSS) is a communal body with a totalitarian outlook.. একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ শক্তি হিসাবে আরএসএস সম্ন্ধে এমএস গোলওয়ালকার  শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে লেখা তাঁর চিঠিগুলিতে বলেছেন, All their (RSS) leader’s speeches were full of communal poison. As a final result of the poison.. an atmosphere was created in which such a ghastly tragedy (Gandhi Asssasination) became possible… RSS men expressed joy and distributed sweets after Gandhiji’s death¡ | সুতরাং নরেন্দ্র মোদীর গান্ধী বন্দনা আরআরএসএস- এর প্যাটেল বন্দনা- দুটোই ভণ্ডামী নয় কি?

 

জিষ্ণু বসু (দ- ব- আর,সএস সম্পাদক) দাবি করেন, ২০১৩ সালে স্বয়ংসেবকের সংখ্যা ছিল ৩৫,০০০|২০১৫ তে ৫৫,০০০| আর শাখার সংখ্যা (ব্লকে ব্লকে) ছড়িয়ে ১৮২ থেকে ২৮৮| পশ্চিমবঙ্গে যদি এত দ্রুত এই অগ্রগতি হয়, তাহলে গোবলয়ে বা গোটা দেশে সংঘ পরিবারের অগ্রগতি সহজেই অনুমান করা যায়।

 

দেশের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় সঙ্গতভাবে নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে কার্যত কটাক্ষ‌ করে সম্প্রতি গুজরাটের গান্ধী আশ্রমে দাঁড়িয়ে বললেন মনের ময়লা দূর করতে হবে। ভারতে বিশ্বজনীন মানবতার যে চিরায়ত সূর সংস্কৃতির মধ্য সম্পৃক্ত রয়েছে তাকে সুকৌশলে ধ্বংস করার যে প্রয়াস চলেছে, রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য সেই ইঙ্গিতই করে। অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,অসহিষ্ণুতা একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ রবিবার নয়া দিল্লিতে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি আরও বলেছেন, অসহিষ্ণুতা নয়,সহিষ্ণুতাই দেশের আত্মা। যারা দেশ জুড়ে উগ্র অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরি করছে, তাদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঠাকুর বলেন, ভারত এক সমন্বয়ের দেশ। এখানে সমস্ত ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে বসবাস করে। প্রত্যেকেই অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, যতদিন বিচারবিভাগ স্বাধীন থাকবে, ততদিন ভয়ের কিছু নেই। তাঁর মতে, যখন সংবিধান দেশের নাগরিক নন এমন মানুষদের প্রতিও আইনের শাসনের নিশ্চয়তা দেয়, তখন যারা এদেশের নাগরিক তাদের অসুরক্ষিত মনে করার কোনও কারণ নেই৷ তা তিনি যে ধর্ম অথবা বিশ্বাসেই বিশ্বাসী হন না কেন৷ তাই আইন কানুন যতদিন এদেশে থাকবে, ভারতবাসীদের সন্ত্রস্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

তিনি বলেন, আমাদের সকলেরই উচিত সহিষ্ণু হওয়া। অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানো। আর যারা ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরি করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুরের এই আশ্বাস আমাদের আশ্বস্ত করলেও পাশাপাশি দেশবাসীকে এই আইনি সুরক্ষ‌ার দায়িত্ব সুনিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ওপর অবিরাম চাপ সৃষ্টি করার কাজ আমাদের চালাতে হবে। কথায় আছে ‘চোরায় না শোনে ধর্মের কথা’। অসহিষ্ণুতা যাদের রাজনীতির ভরকেন্দ্র, তারা সেই ভরকেন্দ্র থেকে বিচ্যুত হলে তাদের দাঁড়ানোর আর কোনও পথ থাকে না। ১৯৯২ –এ বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ২০০২ এ গুজরাটে গণহত্যায় আমরা তার প্রতিফলন দেখেছি। শাসক রাজধর্ম পালন করেনি।

 

সহজিয়া, সুফিপন্থার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ্যধর্ম বা একটি বিশেষ ধর্মই শ্রেষ্ঠ, এই তত্ত্বে যারা বিশ্বাস করেন, ভারতীয় সংবিধান সেই চর্চার অধিকার তাদের দেইনি। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ‌ কাঠামোকে ভাঙ্গার যে প্রয়াস মৌলবাদীদের দিক থেকে আসছে তাকে রুখে দিতে সমস্ত স্তরের মানুষের ঐক্যই রাষ্ট্রীয় মদতদাতাদের বিচ্ছিন্ন করবে দেশবাসী এই আশা পোষণ করেন। আর একটি বাবরি মসজিদ, আর একবার গুজরাটের পুনরাবৃত্তি অন্যত্র, বা সাহারানপুর, মুজফ্ফর নগর ঘটানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকলেই চলবে না, প্রতিহত করতে হবে এই মানসিকতা পোষণ করতে হবে।

 

বিজ্ঞানমনস্কতার আলোকে ভারতের সমন্বয়ী সংস্কৃতি চর্চার আবহকে বজায় রাখতে পারলেই বর্তমানের অসহিষ্ণুতার উত্তাপকে প্রতিহত করা সম্ভব, অন্য কোনও বিকল্প পথ আছে বলে অন্তত আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি না। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহিষ্ণুতার যে বাতাবরণ রয়েছে তাকে ধ্বংস করার হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ফ্যাসিবাদ বিরোধী মঞ্চে সকল দেশপ্রেমী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। মৌলবাদ তা যে রঙেরই হোক শেষ কথা বলে না, বলবে না। এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৪৭ বার পঠিত

Leave a Reply