অবশেষে ১২ ম্যাচ জয়ের পর দ. আফ্রিকাকে পরাজয়ের স্বাদ দিলো ব্ল্যাক ক্যাপসরা

৯৬ বার পঠিত
পরাজয় কাকে বলে মনে হয় ভুলেই যাচ্ছিল দ. আফ্রিকা। অবশেষে ১২ ম্যাচ জয়ের পর সেই পরাজয়ের স্বাদ দিলো ব্ল্যাক ক্যাপসরা। একদিনের ক্রিকেট দু’বার এমন কীর্তি দেখালেও নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষাটা দীর্ঘায়িত হলো। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ২১টি ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এর পরেই প্রোটিয়াদের অবস্থান। ক্রাইস্টচার্চে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৬ রানে হারে দক্ষিণ আফ্রিকা। রস টেইলরের অর্জনের দিনে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতে নিউজিল্যান্ড। নিজেদের টানা জয়ের রেকর্ড স্পর্শের পরের ম্যাচেই হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের সিরিজে শতক করে ন্যাথান অ্যাস্টলের ১৬ শতকের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন টেইলর। এবার তিন অঙ্ক ছুঁয়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ড নিজের করে নিলেন রস টেইলর। ১১০ বলে ৮টি চারে ১০২ রান করার পথে দেশের হয়ে দ্রুততম ৬ হাজার রানে পৌঁছানোর রেকর্ডও গড়েছেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের তাণ্ডবে টানা ত্রয়োদশ জয়ের আশা জাগিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পাওয়া অলরাউন্ডারকে নিজের শেষ বলে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের জয়ে দারুণ অবদান বাঁহাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্টের।

ঘরের মাঠে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮৯ করে নিউজিল্যান্ড। ২৯০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৯ উইকেটে ৫০ ওভারে ২৮৩ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে এ ম্যাচে ৬ রানের জয়ে প্রোটিয়াদের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরে নিউজিল্যান্ড।

শেষ দুই ওভারে প্রোটিয়াদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান। হাতে দুই উইকেট। দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৫ রান দেন ট্রেন্ট বোল্ট। শেষ বলটিতে বোল্ড করে ফেরান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে (২৭ বলে ৫০)। শেষ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫। টিম সাউদির প্রথম চারটি বলে রানই নিতে পারেননি আন্দাইল ফেলুকভায়ো। পরপর দু’টি চার মারলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। অপরাজিত থেকে যান ২৯ রানে।

মার্টিন গাপটিলের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে কিউইদের ছুঁড়ে দেওয়া ২৯০ রানের লক্ষ্যে ২১৪ রান তুলতেই আট উইকেট হারায় সফরকারীরা। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলে প্রিটোরিয়াস ও ফেলুকভায়ো। অল্পের জন্য শেষ রক্ষাটা আর হলো না! ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৩-তে থামতে হয়। ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৫৭, জেপি ডুমিনি ৩৪, ডেভিড মিলার ২৮ ও এবি ডি ভিলিয়ার্স ৪৫ রানে আউট হন। বোল্ট সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন। স্পিনার মিচেল স্যান্টনার দু’টি আর একটি করে নেন সাউদি, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও ইশ শোধি।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে বুধবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ১৩ রানেই সাজঘরে ফেরেন ল্যাথাম (২)। এরপর ব্রাউনলি ২৪ রান করে সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে কিউইরা। তবে তৃতীয় উইকেট উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ১০৪ রানের জুটি গড়েন টেলর। তবে ৬৯ রান করে ইমরান তাহিরের বলে সাজঘরে ফেরেন উইলিয়ামসন।

উইলিয়ামসন না পারলেও টেলর দেখা পান শতকের। ১০৮ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ১০২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন কিউই এই তারকা। নিল ব্রুমের দ্রুত বিদায়ে হঠাৎ চাপে পড়া নিউ জিল্যান্ডকে পথ দেখান টেইলর-নিশাম। দুই জনে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ১৭.২ ওভারে গড়েন ১২৩ রানের জুটি। নিশাম ৫৭ বলে ৭১* রান করলে ২৮৯ রানের সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। শনিবার ওয়েলিংটনে হবে তৃতীয় ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৮৯/৪ (ব্রাউনলি ৩৪, ল্যাথাম ২, উইলিয়ামসন ৬৯, টেইলর ১০২*, ব্রুম ২, নিশাম ৭১*; মসির ০/৫৮, পার্নেল ১/৪৯, প্রিটোরিয়াস ২/৪০, তাহির ১/৬১, ফেলুকওয়েয়ো ০/৬২, দুমিনি ০/১৭)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৮৩/৯ (আমলা ১০, ডি কক ৫৭, দু প্লেসি ১১, দুমনি ৩৪, ডি ভিলিয়ার্স ৪৫, মিলার ২৮, প্রিটোরিয়াস ৫০, মরিস ৭, পার্নেল ০, ফেলুকওয়েয়ো ২৯*, তাহির ০*; সাউদি ১/৬০, বোল্ট ৩/৬৩, নিশাম ০/২০, গ্র্যান্ডহোম ১/১০, উইলিয়ামসন ০/১৬, সোধি ১/৬৩, স্যান্টনার ২/৪৬)

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রস টেইলর (নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ: ১-১ এ সমতা

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com