অতিষ্ঠ হয়ে জাবি ছাড়ছে অতিথিরা

১২২ বার পঠিত

মাহবুব আলম, জাবি # অতিথি পাখি আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একে অপরের সঙ্গে যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই অতিথি পাখির খুনসুটির কথা মাথায় আসে সবার। কারণ, প্রতিবছর এ ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে আসে নাম না জানা অসংখ্য অতিথি পাখি। তবে দিন দিন এ পাখির সংখ্যা কমছে। পাখি গবেষকরা মনে করছেন, নানাভাবে উত্ত্যক্ত করায় অতিষ্ঠ হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ছে এসব পরিযায়ী পাখিরা।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাখিদের উত্ত্যক্ত না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলো মানছেনা কেউই। প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ, হল, সংগঠনের আনন্দ শোভাযাত্রাগুলো যাচ্ছে লেকের পাশের রাস্তা দিয়ে। এসব শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে বাজানো হয় ঢোল-তবলা-বাঁশি-ভুভুজেলা। লেকের আশপাশ দিয়েই চলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চশব্দে মাইকিং। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি গবেষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীরা অতিথি পাখিদের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন থাকলেও এখন এটা যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পাখিরা চলে যাচ্ছে।

এদিকে দর্শনার্থীরাও মানছেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা। গাড়ির হর্ন বাজাতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঘুরতে আসা অধিকাংশ দর্শনার্থীই মানছেন না এটি। এমনকি লেকের পাড়ে গাড়ি রেখে উচ্চশব্দে গান শুনতেও দেখা যায় কখনো কখনো। দর্শনার্থীরা সঙ্গে আসা শিশুদের কিনে দিচ্ছেন ভুভুজেলা। এগুলো বাজিয়েও অতিথি পাখিদের বিরক্ত করতে দেখা গেছে শিশুদের। লেকের পাড়ে তারকাটার বেড়া থাকলেও বেড়া ডিঙিয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছেন পাখির একেবারে কাছাকাছি। পাখিদের উড়ন্ত ছবি তুলতে হাততালি দেয়া ও ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটছে।

এসব বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বলেন, এ অতিথি পাখি আমাদের ঐতিহ্য। আর সে ঐতিহ্য কিছু মানুষের অসচেতনতার কারণে নষ্ট হয়ে যাবে তা মেনে নেয়া যায়না। তাই আরও জোরালো ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এসব বিষয়ে পাখি মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাখি অনেক কম এসেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, গত বছর বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন লেকটিতে প্রচুর পাখি এলেও এবার এ লেকটিতে পাখি নেই বললেই চলে। ট্রান্সপোর্ট চত্বরসংলগ্ন দুটি লেকের একটিতে অনেক পাখি থাকলেও অন্যটিতে রয়েছে কম।

এ পাখি বিশেষজ্ঞের মতে, যেকোনো শব্দ আমরা যতটুকু তীব্রতায় শুনি, তার চেয়ে পশুপাখিরা শুনে কয়েক হাজার গুণ বেশি তীব্রতায়। এ জন্য যেকোনো বিরক্তিকর উচ্চ শব্দ মানুষের চেয়ে পশুপাখির জন্য কয়েক হাজার গুণ বেশি ক্ষতিকর।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com